• বিদেশ ডেস্ক
  • ২১ জুন ২০১৯ ২০:২৩:৩৭
  • ২১ জুন ২০১৯ ২০:২৩:৩৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বে প্রতিদিন ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় ৩৭ হাজার মানুষ

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধ, সহিংসতা ও হত্যা থেকে বাঁচতে ২০১৮ সালে বিশ্বে ৭ কোটিরও বেশি মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গড়ে প্রতিদিনই ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ৩৭ হাজার মানুষ। সংস্থাটির শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, বিগত ৭০ বছরের মধ্যে ঘরহারা মানুষের এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।

বুধবার শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা প্রকাশিত বার্ষিক গ্লোবাল ট্রেন্ডস প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে ৭ কোটি ৮ লাখ মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে যা গতবছরের তুলনায় ২৩ লাখ বেশি। ২০ বছর আগের সংখ্যার সাপেক্ষে এটি দ্বিগুণ। সংস্থাটি জানায়, ঘরহারা মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ ভেনেজুয়েলা সংকটে ঘরহারাদের সংখ্যা প্রতিবেদনে আংশিকভাবে উঠে এসেছে। ভেনেজুয়েলার শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সঙ্গে এই বাস্তুহারাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হারের আনুপাতিক সম্পর্কও উঠে এসেছে  প্রতিবেদনে। ১৯৫১ সালে শরণার্থী কনভেনশন এর পর থেকে প্রণীত তালিকা অনুযায়ী‌ এর আগ পর্যন্ত সবোর্চ্চ সংখ্যক মানুষ ঘর হারিয়েছিল ১৯৯২ সালে। প্রতি এক হাজারে মানুষে সেবছর বাস্তুহারার হার ছিলো ৩.৭ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে এসে তার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ঘরহারাদের তিনটি ভাগে পর্যায়ভূক্ত করা হয়েছে। একটি ভাগে রয়েছে যুদ্ধ, হত্যা কিংবা সহিংসতা থেকে বাঁচতে দেশ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা। ২০১৮ সালে এমন শরণার্থীদের সংখ্যা ২ কোটি ৫৯ লাখ, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৫ লাখ বেশি। শুধু ফিলিস্তিনি শরণার্থীই রয়েছে ৫৫ লাখ।

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে সেইসব রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, যারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিতে নিজের দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছে কিন্তু এখনও শরণার্থী স্বীকৃতি পায়নি। তাদের সংখ্যা ৩৫ লাখ।

তৃতীয় ভাগে রাখা হয়েছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের। তারা ঘর ছাড়তে বাধ্য হলেও নিজ দেশেই অবস্থান করছেন। বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা ৪ কোটি ১৩ লাখ।

বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ শরণার্থীই সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়ার নাগরিক। এর মধ্যে সিরীয় শরণার্থীই সবচেয়ে বেশি। সংখ্যায় ৬৭ লাখ শরণার্থীর মধ্যে ২০১৮ সালে মাত্র ৯২ হাজার ৪০০ জন শরণার্থী পুনর্বাসিত হয়েছেন, যা ৭ শতাংশেরও কম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক শরণার্থী রয়েছে আফগানিস্তানে। তাদের সংখ্যা ২৭ লাখ।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্দি বলেন, প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে যুদ্ধ, হত্যা ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে বেড়ানো মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছরই বাস্তুহারাদের সংখ্যা বেড়েছে। সেবছর বাস্তুহারার সংখ্যা ছিলো ৪ কোটি ৩৩ লাখ। আর ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সিরিয়া সংকটের কারণে বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিলো। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক ও ইয়েমেন, সাব সাহারান আফ্রিকায় ডিআর কঙ্গো এবং দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোর সহিংসতাও এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

২০১৭ সালের শেষ দিকে মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ইথিওপিয়ানদের মধ্যে শরণার্থী সংখ্যা ১৫ লাখ। তাদের ৯৮ শতাংশই অভ্যন্তরীণ শরণার্থী যা বিগত সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। এর মূল কারণ জাতিগত সহিংসতা।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0205 seconds.