• বিদেশ ডেস্ক
  • ২০ জুন ২০১৯ ০১:১৭:৪৯
  • ২০ জুন ২০১৯ ০১:১৭:৪৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজ দায়ী: জাতিসংঘ

জামাল খাশোগি ও সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। ফাইল ছবি

সৌদি ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানসহ (এমবিএস) দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়ী থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে এই প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড সাংবাদিক জামাল খশোগির হত্যার ব্যাপারে এমবিএসসহ সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্তের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনার জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড তদন্তে অ্যাগনেস ক্যালামার্ডকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ক্যালামার্ডসহ আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ দীর্ঘ ছয়মাস ধরে খাশোগি হত্যার বিষয়টি তদন্ত করে দেখেন। এজন্য তারা তুরস্কেও যান।

বুধবার ক্যালামার্ড খাশোগির হত্যাকাণ্ড নিয়ে ১০১ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ‘খাশোগি সুচিন্তিত এবং পূর্বনির্ধারিত হত্যার শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করা যায়।’

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের করা এই তদন্ত প্রতিবেদনে জামাল খাশোগিকে হত্যার ভয়াবহ সব বিবরণ বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট থেকে পাওয়া অডিও থেকে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের নির্মম সব তথ্য জানতে পারেন। অডিওতে সৌদি এজেন্টদের খাশোগির মরদেহ খন্ড খন্ড করার ব্যাপারে আলোচনা করতে শোনা গেছে।

খাশোগি হত্যাকে তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। ভিন্ন মতাবলম্বী এই সাংবাদিককে নির্যাতন করে হত্যার জন্য সৌদি আরব দায়ী বলে জানান তিনি। এছাড়া এই হত্যার প্রমাণ ধ্বংস করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ সরাসরি জড়িত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের জড়িত থাকার অকাট্য কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ভিন্ন মতাবলম্বী খাশোগির কণ্ঠরোধ করার জন্য তাকে লক্ষ্য করে যে অপরাধমূলক মিশনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাতে সৌদি যুবরাজ অপরিহার্য একটি ভূমিকা পালন করেন।

তিনি লিখেন, বিভিন্ন প্রমাণে দেখা গেছে, খাশোগির হত্যা মিশনে যে ১৫ জন অংশগ্রহণ করেন তার জন্য সরকারী সমন্বয়,সম্পদ এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল।

এদিকে খাশোগি হত্যায় অংশ নেয়া সৌদি কর্তৃপক্ষ দ্বারা সৌদি কর্মকর্তাদের বিচারের বিষয়টি স্থগিত করে দেয়ার আহ্বান জানান ক্যালামার্ড। কারণ এর মাধ্যমে সঠিক বিচার করা হচ্ছে না বলে ধারণা করেন তিনি। খাশোগির হত্যার বিচারে নেয়া সৌদি পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি এগুলোকে যথার্থ নয় বলে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের বিশেষ দূতের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর খাশোগি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার ১৩ মিনিট আগেই সেখানে অবস্থান করা সৌদি এজেন্ট মাহের মুতরেব এবং সালাহ তুবাইগি (ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ) তাকে হত্যা করার পর তার মরদেহ টুকরা টুকরা করার ব্যাপারে আলোচনা করছিলো। এমনকি কিভাবে তাকে টুকরা টুকরা করা হবে সেটিরও লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

ক্যালামার্ড তার প্রতিবেদনে খাশোগির ব্যক্তিজীবনকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় বর্ণনা করার চেষ্টা করেন। ওয়াশিংটনে তার নিঃসঙ্গ জীবন, আর্থিক অনটন, নিরাপত্তাহীনতা, তার মতাদর্শ সবকিছুই তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের বহুল প্রতিক্ষীত এই প্রতিবেদনের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। যদিও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। সেসময় তিনি বলেছিলেন, খাশোগি সৌদি কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্মম এবং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার।ছিলেন। এছাড়া খাশোগি হত্যার বিষয়ে তুরস্কের তদন্তেও সৌদি আরব প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

বাংলা/এফকে

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0208 seconds.