• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৯ জুন ২০১৯ ১৯:০৫:৩৭
  • ১৯ জুন ২০১৯ ১৯:০৫:৩৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর বাসা মেরামতে খরচ ২৮ লাখ!

ছবি : সংগৃহীত

চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য বরাদ্দ ২৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জিএমের দপ্তরের ওই কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য প্রধান প্রকৌশলী এই বরাদ্দ দেন। এমন একটি অভিযোগ রেল ভবন ও রেল মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে (২৬ মে) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ শেখ নাইমুল হককে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্য হলেন বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়া হলেও, এখনো তা জমা দিতে পারিনি তারা।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে কমিটির প্রধান শেখ নাইমুল হক জানান, তদন্তের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি আমারা। এছাড়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাসা, বাংলো, সড়ক, অফিস ভবন মেরামত করার নামেও কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

যে ঠিকাদার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের যত বেশি ঘুষ দিতে পারেন, সে ঠিকাদার তত বেশি কাজ পান। আর এভাবে কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদার নয়-ছয় করে কাজ শেষ করে টাকা হাতিয়ে নেয়। এক্ষেত্রে বরাদ্দের এক তৃতীয়াংশের চেয়েও কম অর্থ ব্যয় করেও পুরো বিল নেয়ার অভিযোগ আছে। এমকি কাজ না করে বিল তুলে নেয়ার নজিরও রয়েছে।

জানা যায়, ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার পর ১৩ মার্চ আলমগীর, মনির হোসেন, শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ জুয়েল ও মো: জসিম প্রমুখ ঠিকাদার রেলমন্ত্রী বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দেন। কিন্তু ততদিনে মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএমের পরিচয় ব্যবহার করে সাইফুল নামে এক ঠিকাদার কাজটি করেছেন। অধিকাংশ মেরামত কাজে দুর্নীতি হয় বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সৈয়দ মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমার জানা মতে, একজন কর্মচারীর বাসা মেরামতে ২৮ লাখ টাকা দেয়া হয়নি। চার থেকে পাঁচটি পরিবারের জন্য এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’ আরো বিস্তারিত জানতে হলে প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিলের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

কিন্তু প্রধান প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তা রিসিভ হয়নি। এরপর তার অফিস সহকারী মো: দিদারকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘আমি স্যারকে বলেছি। মাগরিবের নামাজ পড়ে তিনি কল দেবেন।’

কিন্তু নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষার পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ফের তার মুঠো ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হয় এবারেও কল রিসিভ হয়নি। একই বিষয় জানার জন্য ঠিকাদার সাইফুলের মুঠো ফোনেও যোগাযোগ করলেও ফোন রিসিফ হয়নি।

এছাড়াও অভিযোগ আছে, সিআরবি এলাকায় রেলের ভিআইপি রেস্ট হাউস মেরামতের জন্য কয়েকটি ধাপে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাজ বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নিয়েছেন মৌখিক নির্দেশে। একই ঠিকাদারকে সব কাজ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম ঘুষও নিয়েছেন তিনি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0246 seconds.