• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৯ জুন ২০১৯ ১৫:২১:৫৪
  • ১৯ জুন ২০১৯ ১৫:২১:৫৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

মৃত্যুর আগে ২০ মিনিট আদালতের খাঁচায় পড়েছিলেন মুরসি

মোহাম্মদ মুরসি। ছবি : সংগৃহীত

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলছে তার বন্ধু ও সহকর্মীরা। তারা অভিযোগের আঙুল তুলছেন নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে। তাদের দাবি, আদালত কক্ষে মুরসি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিতে গড়িমসি করেছে পুলিশ। তরিৎ ব্যবস্থা না নেয়ায় মারা গেছেন মুরসি।

মুরসির বন্ধু ও সহকর্মীদের অভিযোগ, মুরসি অসুস্থ হয়ে আদালত কক্ষের মেঝেতে ২০ মিনিট পড়েছিলেন। আদালতে উপস্থিত অন্য আসমীরা মুরসিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলেও কারারক্ষীরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিশরের এটর্নি জেনারেলের অফিস।

কর্তৃপক্ষের দাবি, অসুস্থ হয়ে পড়ার সাথে সাথেই মুরসিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর সেখানেই মারা যান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মুরসি। 

তবে আব্দুল্লাহ আল হাদ্দাদ ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, তারবাবা ও ভাই সেদিন আদালতে মুরসির পাশেই দাঁড়িয়েছিলন। তারা বলেছেন, মুরসি পড়ে যাওয়ার পর কেউ-ই তার সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।

হাদ্দাদ আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা রক্ষীরা বাইরে নেয়ার আগপর্যন্ত মুরসি খাঁচার মধ্যেই পড়েছিলেন। আধাঘণ্টা পর সেখানে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। অন্য আসামিরা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে, সেখানে কয়েকজন চিকিৎসকও ছিলেন। তারা নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে প্রথমে মুরসির চিকিৎসার ব্যবস্থা করার অনুরোধও করেন।’ 

এসময় আসামিদের পরিবারে সদস্যদের আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেয়া হয় বলেও জানান হাদ্দাদ।
হাদ্দাদ নিজেও তার বাবাকে নিয়ে ভয়ে আছেন। তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও কারাকর্তৃ পক্ষের কাছ থেকে মেলেনি অস্ত্রোপচারের অনুমতি। মানবাধিকার কর্মীরাও একই কথা বলছেন। 

মিশরের এক মানবাধিকার কর্মী দ্যা টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘মুরসি কথা বলা বন্ধ করার দশ মিনিট পর থেকেই ভেতর থাকা লোকজন খাঁচার গায়ে আঘাত করতে থাকেন। বাইরের লোকদের জানান মুরসি অচেতন হয়ে পড়েছেন, তার সহায়তা দরকার। তার পরিবারের সদস্যরাও জানিয়েছেন, পুলিশকে জানানোর ২০ মিনিট পরও পদক্ষেপ নেয়নি।’ 

২০১৩ সালে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসেন সেনা শাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি। বিদেশি শক্তি ও জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মুরসিকে। দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিস, উচ্চরক্ত চাপসহ লিভারের নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। অভিযোগ আছে, মুরসির যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা করেনি সরকার। এছাড়া কারাগারে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মিশর মোহাম্মদ মুরসি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0209 seconds.