• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৫ জুন ২০১৯ ১৩:৫৫:২৮
  • ১৫ জুন ২০১৯ ১৪:০৭:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

পুলিশের সোর্স পরিচয়ে প্রেমিকা ছিনতাই!

ছবি : সংগৃহীত

পরিবার প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় গত ৮ জুন রাতে বাসা থেকে অজানা উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন ও ইয়াসিন শেখ ফাহিম। তারা দুজনই রাজধানীর পল্লবী এলাকার এমডিসি মডেল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। জেরিনের বয়স মাত্র ১৩ বছর আর ফাহিমের ১৫।

নিখোঁজ জেরিনের পরিবার ও পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ঘটনার পরদিন মামলাটি করেন জেরিনের বাবা জামাল উদ্দিন।

এদিকে প্রেমিকা জেরিনকে নিয়ে পালানোর তিন দিন পর ফাহিম নিজের বাসায় ফিরে আসে। কিন্তু তার সঙ্গে ছিল না জেরিন। পরে জেরিনের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা ফাহিমকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে মামুন নামের এক ব্যক্তি জেরিনকে রাত ১১টার দিকে তার কাছে থেকে নিয়ে গেছে। এরপর ছয়দিন ধরে জেরিনের আর কোনো খোঁজ মিলছে না। ফাহিমের দাবি, পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া মামুন নামের ওই ব্যক্তি জেরিনকে অন্য কোথাও নিয়ে গেছে।

তবে পুলিশ বলছে, গন্ডার নামের অন্য এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে জেরিনকে জোড় করে বিয়ে দিয়েছে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া মামুন। সেই ব্যক্তির মুঠোফোন নম্বর ট্রাকিং করে সর্বশেষ অবস্থান জানা গেছে কুমিল্লায়।

তবে জেরিনের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ফাহিমই জানে জেরিনের সঙ্গে কী হয়েছে। অথবা সে নিজেই জেরিনের কোনো ক্ষতি করেছে।

নিখোঁজ জেরিনের মামা শামীম আহমেদ বলেন, ‘জেরিনের বয়স খুবই অল্প। এই বয়সে প্রেমের বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারছিলাম না। গত বছরের রমজানে জেরিনের মা ফাহিম ও জেরিনের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারে। তখন তিনি রেগে ফাহিমকে দুটা থাপ্পড়ও মেরেছিল। কিন্তু এরপরও তাদের সম্পর্ক আগের মতোই ছিল। আমার মনে হয়, এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই জেরিনের কোনো ক্ষতি করেছে ফাহিম।’

গত ৮ জুন রাত ৯টার পরে বাসা থেকে বেরিয়েছিল জেরিন। পরে রাত ১১টার দিকে বি-ব্লকের ১১ নম্বর সড়কে তাদেরকে এক সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখা গেছে সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফাহিম ও তার এক বন্ধু জেরিনকে একটি প্রাইভেটকারে তুলেছিল। আর জেরিনের পরিবারের দাবি, ওই স্থান থেকেই জেরিনকে অপহরণ করা হয়।

তবে পুলিশের কাছে ফাহিম দাবি করে, ওই রাতে পুলিশের এক সোর্স তাকে ভয় দেখিয়ে জেরিনকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়।

জেরিনের বাবার করা মামলায় ফাহিম, তার মা ফারহানা বেগম ও ফারহান মাসুদ নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করে। তবে ঘটনার ছয় দিন পার হলেও এখনো খোঁজ মেলেনি জেরিনের।

ফাহিমের ভাষ্যমতে, মামুন নামের যে ব্যক্তি জেরিনকে নিয়ে গিয়েছিল, তার এখনো কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ। তার বাসাতেও তালা দেওয়া। আর ওই ব্যক্তির যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিল ফাহিম, সেটিও বন্ধ। এমন ঘটনার পর ফাহিমের কথায় মামুন নামের ওই ব্যক্তির সন্ধান পেতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পরে ফাহিমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামুন নামের পুলিশের সোর্স পরিচয় দেওয়া যে যুবকের কাছে জেরিনকে ফাহিম তুলে দিয়েছিল, তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে, এই মামুন পল্লবী বিহারি ক্যাম্পের গন্ডার নামের এক সন্ত্রাসী ছেলের সঙ্গে জোড় করে জেরিনের বিয়ে দিয়েছে। গন্ডারের নামে একাধিক মামলা রয়েছে থানায়।’

প্রেমিকা উদ্ধার

নিখোঁজের ছয় দিন পর জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিনকে মিরপুর-১১ এর একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় গন্ডার নামে বিহারি ক্যাম্পের সেই সন্ত্রাসীসহ তিন সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ।

পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ( এসআই) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেরিন নামের মেয়েটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

জেরিনের মামা শামীম আহমেদ জানান, জেরিনকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.