• ১২ জুন ২০১৯ ১৭:৩৯:৪৬
  • ১২ জুন ২০১৯ ১৭:৩৯:৪৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

প্রাচীন স্থাপত্য মুন্সিবাড়ীতে ঘুরে বেড়ায় গরু-ছাগল

ছবি : বাংলা

চন্দন কুমার সরকার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :

উলিপুরের প্রাচীন স্থাপত্য মুন্সিবাড়ী হতে পারে দর্শনীয় স্থান। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে দুইশত সত্তর বছরের অধিক সময় আগের মনোরম এ স্থাপত্যটি। এখন সেখানে মূল ভবনের দুটি রুমে আছে ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। মূল ভবনের পিছনেই তৈরি হচ্ছে নতুন ভূমি অফিস।

যেখানে একসময় নবাব সিরাজউদ্দৌলার খসড়া প্রণয়ন বিভাগের কর্মী বনওয়ারী মুন্সি থাকতেন। কালের পরিক্রমায় এখন সেখানে এলাকার মানুষ আরাম আয়েশ করে শুয়ে বসে থাকে, গরু-ছাগল বিচরণ করে। যদিও বর্তমানে ওখানে গিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি সাইনবোর্ড টাঙানো দেখা গেছে, যাতে লেখা রয়েছে ‘সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।’

জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা শহরের বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে ২৭০ বছরের অধিক পুরাতন স্থাপত্য মুন্সিবাড়ী। নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাসনামলে, বনওয়ারী মুন্সি যিনি খসড়া প্রনয়ন বিভাগে একজন কর্মচারী ছিলেন। এ কারণেই মুন্সি শিরোনাম তার নামে যোগ হয়ে যায়। নবাবের রাজত্বকালে, বনওয়ারী মুন্সি ধরনীবাড়ী অঞ্চলে বামনী নদী পথে, যা বর্তমানে শুকিয়ে গিয়েছে, শিকারের জন্য এসেছিলেনে। শিকারের সময় তিনি একটি সাপকে ব্যঙ্গ গিলে ফেলার দৃশ্য দেখে, অতি উৎসাহিত হয়ে  নবাবকে এ অঞ্চলের কিছু জমি তার নামে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। নবাব তাকে ২১.২০ একর জমি এবং লক্ষ্মী নারায়ণের জন্য ১১.২০ একর জমি বরাদ্দ করেন।

বনওয়ারী মুন্সির কোনও সন্তান ছিল না। তার স্ত্রী কাদিঙ্গিনী মুন্সী, লক্ষ্মী নারায়ণকে সেবা করার জন্য বিনোদ নামে একজন দত্তক পুত্র নিয়েছিলেন। কিন্তু বিনোদও সন্তানহীন ছিলেন। পরবর্তীতে তাই একই উদ্দেশ্যে বিনোদের স্ত্রী, কৃষ্ণ কামিনী আরেক ছেলে, ব্রজেন্দ্র লালকে গ্রহণ করেছিলেন। পরে ব্রজেন্দ্র লাল মুন্সির স্ত্রী আশরাথ মুন্সি দুই মেয়েকে জন্ম দেন। বড় মেয়ে শুচি রানী ও ছোট মেয়ে শুশমান কান্তি। শুশমান কান্তি খুব অল্প বয়সে মারা যায়। কুষ্টিয়াতে শুচি রানীর বিয়ে হয়। পরে তার পরিবার কলকাতায় বসবাস করতে চলে যায়। শুচী লক্ষ্মী নারায়ণকে সেবা করার জন্য বিহারীলাল নামে একজন পুত্র সন্তান দত্তক গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে কলকাতায় চলে যান।

সংস্কারের অভাবে ভবনটির নাট মন্দির, দুর্গা মন্দির, বিষ্নু মন্দির, ডাইনিং ঘর, রান্নাঘর, গোবিন্দ মন্দির, অঙ্কন ঘর, বিছানা ঘর, উপরের তলায় বিশ্রামের ঘর, বাথরুম এবং শিব মন্দির নষ্ট হয়ে যায়।

মুন্সিবাড়ী ও তার সম্পত্তি দখলের জন্য কয়েক বছর পূর্বে স্থানীয় কিছু লোকের বিরোধ সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে অনেকেই আহত ও একজন নিহত হয়। পরবর্তীতে সরকার মুন্সিবাড়ী ও তার সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বর্তমানে ইসলামী মিশন ও ফাউন্ডেশন ভূমি অধিদপ্তরের কাছ থেকে ৯০ বছরের জন্য ভবনটি লিজ নিয়ে, সেখানে মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল ও একটি মসজিদ স্থাপন করেছে। এ ছাড়াও কিছু জমি স্থানীয় লোকজনকে বার্ষিক লিজ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। মুন্সিবাড়ী গোবিন্দ মন্দীরে প্রতিদিন পূজা হয়। প্রতি বছর মুন্সি বাড়ী প্রাঙ্গণে দূর্গা মেলা হয়।

এলাকাবাসী ও উলিপুরের সচেতন মহলের মতে, রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ির ন্যায় উলিপুরের প্রাচীন স্থাপত্য মুন্সিবাড়ী হতে পারে অত্যন্ত নান্দনিক একটি দর্শনীয় স্থান। এতে করে দীর্ঘদিনের পুরনো এই পুরাকীর্তিটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা হবে পাশাপাশি ওই এলাকাসহ উলিপুর উপজেলা সবদিক থেকে ভবিষ্যতে আরো উন্নত হতে পারে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0305 seconds.