• ০৯ জুন ২০১৯ ২১:০১:২৯
  • ০৯ জুন ২০১৯ ২১:০১:২৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

বসে বসে কারা ঢালাওভাবে প্রচার হওয়া এই বিজ্ঞাপন দেখে?

প্রতীকী ছবি

এখন আর নানা কারণেই ঈদের বিশেষ নাটক দেখার আগ্রহ জাগে না। ‘ঈদ স্পেশাল’ বলে যেসব নাটক বা টেলিফিল্ম হচ্ছে সেখানে ‘স্পেশাল’ কিছু খুঁজে পাইনা। হাতে গোনা কয়েকজন নির্মাতার নাটক-টেলিফিল্ম ছাড়া দেখা হয় না। এবার ঈদে দেখতে বসেছিলাম আশফাক নিপুনের পরিচালিত টেলিফিল্ম ‘মিস শিউলি’। এনটিভিতে সম্প্রচার হওয়া নাটকটি অনলাইনে দেখছিলাম সরাসরি।

স্ক্রিনের ডানে ও বামে দুই কর্নারের উপর এবং নিচে দুটি কোম্পানির বিজ্ঞাপনী লোগো ঝুলছিলো। যাই হোক বিজ্ঞাপন ছাড়া খরচ উঠবে কি করে? অতএব আপাতত বিজ্ঞাপনই ভরসা। এর ভেতর একটি বিজ্ঞাপন সম্ভবত ‘সেভেন আপ’ এর। ওই লোগো বিজ্ঞাপনটি বারবার নানাভবে নানা কায়দায় আসছে-যাচ্ছে-নাচচ্ছে...। যা দেখার ক্ষেত্রে চোখের জন্য মোটেই আরাম দায়ক কিছু না। তারপরও দেখছিলাম। কিছুক্ষণ দেখতে না দেখতেই বিজ্ঞাপন। কখনো অমুক কোম্পানির ৩০ সেকেন্ডের স্পেশাল বিজ্ঞাপননের সময় শেষ হয়ে দু/চার মিনিট যেতে  না যেতেই এবার শুরু হলো বিজ্ঞাপনের জোয়ার। ৪/৫ মিনিট টানা বিজ্ঞাপন। বুঝলাম আমার আর দেখা হবে না।

একটি নাটক দেখতে গিয়েও দেখতে পারিনি বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণায়। একই ঘটনা ঘটেছে খোদ নির্মাতা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাথেও। অনেকেই বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনায় নিজের নাটকই দেখননি। কেউ কেউ পরিবার পরিজন নিয়ে দেখতে বিরক্ত হয়ে নাটক দেখার তাল হারিয়ে ফেলেছেন। কেউ বা মাঝ পথেই উঠেগেছেন। ফেসবুকে, গণমাধ্যমে এইসব অভিজ্ঞতার কথা তারা শেয়ারাও করেছেন।

এইসব বিজ্ঞাপন যারা দিচ্ছেন তারাতো তাদের বিজ্ঞাপন মানুষকে দেখার জন্য দিচ্ছেন। আর যারা প্রচার করছেন তারা তো মানুষকে দেখাবেন এই কথা বলেই বিজ্ঞাপন নিয়ে তা প্রচার করছেন। এখন কথা হলো আদৌকি মানুষ বসে বসে এই ঢালাওভাবে প্রচার হওয়া এইসব বিজ্ঞাপন দেখছে? টিভি দর্শকদের নিয়ে কি এমনই ধারনা রাখেন টেলিভিশনগুলোর নীতি নির্ধারকরা এবং বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলো! আমি বুঝিনা তারা কি করে ভাবেন এমন ঢালাও ভাবে প্রচার হওয়া বিজ্ঞাপন মানুষ দেখছে! হাতের কাছে চ্যানেল বদলানো রিমোট আছে, অযথা স্ক্রল করে সময় পার করার জন্য মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আছে। কেন সে বসে বসে এই বিরক্তি নিয়ে বিজ্ঞাপন দেখবে? প্রচার হওয়া বিজ্ঞাপনগুলোর ভেতর কয়টা বিজ্ঞাপনই আছে আর্কষনীয় দেখার মতো?

আর এতো বিরতি এবং বিরক্তি নিয়ে কার দায় পরেছে নাটক দেখবে? তার বিনোদনের জন্য অসংখ্য অপশন এখন তৈরি হয়েছে। যে কারণে মানুষ দ্রুত চ্যানেল বদলে অন্য চ্যানেলে চলে যাচ্ছে। যেখানে তারা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিনোদন পাবে সেখানেই যাবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের বাংলা চ্যানেলের চেয়ে ভারতীয় বাংলা চ্যানেলগুলো এখন বেশি জনপ্রিয়তা বা দশর্ক পাচ্ছে। এই যে আমাদের দর্শক সরে যাচ্ছে বা চলে যাচ্ছে তার পেছনে শুধু অনুষ্ঠান মান নয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার ব্যবস্থাও দায়ী বলে আমি মনে করি।

একদিকে ঈদ স্পেশাল বলে কাতুকাতু দিয়ে অযথা হাসানোর চেষ্টা, এক ঈদে যে নাটক হিট হয় পরের ঈদে সেই ধরনের ‘কপি নাটক’ প্রচার করার প্রবনতা, বিজ্ঞাপন বিড়ম্বনা সবকিছু মিলিয়ে ঈদের বিনোদন উৎসব আসলে বিরক্তির মেলায় পরিনত হয়। আর এসব কারণেই টিভি বিমুখ হচ্ছে দর্শকরা।

বিজ্ঞাপন দাতাদেরও ভাবতে হবে এই ভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা দর্শকের মনযোগ পাচ্ছে না কি বিরক্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আর সম্প্রচার কর্তারা চিন্তা করুন, ভাবুন- এসব কাজের মাধ্যমে দর্শক ধরে রাখতে পারছেন তো আপনার চ্যানেলে?

সংশ্লিষ্ট বিষয়

টিভি বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0273 seconds.