• ০৮ জুন ২০১৯ ১২:০৪:০১
  • ০৮ জুন ২০১৯ ১২:৪১:০৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

স্বপ্নযাত্রার শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে কুপোকাত করেছিল টিম টাইগারস। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই দেখতে হলো মুদ্রার উলটো পিঠ। নাটকীয়তার ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হলো ২ উইকেটে।

তবে এ হারকে হতাশা নয়, বরং প্রেরণা হিসেবে নিয়ে আজ আবারো মাঠে নামছে মাশরাফি বাহিনী। প্রতিপক্ষ এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ের বিকল্প ভাবছে না বাংলাদেশ। তাই দ্বিতীয় ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে আজ আবারো মাঠে নামবে বাংলাদেশ। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড মহারণ শুরু হবে দুপুর সাড়ে তিনটায়।

বাংলাদেশ :

কার্ডিফ বলেই বাড়তি প্রেরণা পাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ প্রিয় এ ক্রিকেট ক্যানভাসে এখনো অপরাজেয় টাইগাররা। দলের সবাই চাইবে এ পয়া ভেন্যুতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। আর দ্বিতীয় ম্যাচের হারের গ্লানি ভুলে দলকে উপহার দিতে চাইবে পূর্ণ পয়েন্ট।

তবে ভাবনার বিষয় হলো বিশ্বকাপে এখনো নিজের পরিচিত রুপে হাজির হতে পারছেন না ওপেনার তামিম ইকবাল। ভালো শুরু করেও আউট হয়ে যাচ্ছেন সৌম্য। সাকিব, মুশফিক ছাড়া এখনো কেউ খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। বোলিংয়ে ছন্দে নেই মাশরাফিও। তবে এদিক দিয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম সাইফুদ্দিন। গত ম্যাচে ব্যাটে-বলে দারুণ কার্যকর ছিলেন এ সিমিং অলরাউন্ডার। তবে তা হার এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। তাই ম্যাচ জিততে চাইলে একসাথে জ্বলে উঠতে হবে সবাইকে। টপ অর্ডারে ভালো শুরুর পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারকেও দিতে হবে অগ্নি পরীক্ষা। আর পেসারদের রাখতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবেই আজকে কার্ডিফে করা যাবে ইংল্যান্ড বধ। 

নজর থাকবে যাদের উপর :

১. তামিম ইকবাল- এখনো পর্যন্ত টানা দুই ম্যাচ ব্যর্থ দেশসেরা এ ওপেনার। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে করেছিলেন ১৯ রান। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪ রান করেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। তাই বলায় যায় প্রত্যাশার সিকি ভাগও আসেনি এ ওপেনারের উইলো থেকে। আজ তাই ভক্তদের পাশাপাশি তামিমও চাইবে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে। পাশাপাশি দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে। আর এমনটা যদি সত্য হয়, তবে কপালে মন্দ আছে স্বাগতিকদের।

২. সৌম্য সরকার- নিঃসন্দেহে দেশের সেরা কয়েকজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে একজন। গত বিশ্বকাপও খেলেছেন দেশের হয়ে। করতে পারেন ক্লিন হিট। তাই এ ড্যাসিং ওপেনারকে নিয়ে সবার চাওয়াটাও আকাশচুম্বি। কিন্তু প্রত্যাশার সাথে এখনো জোগান ঠিক রাখতে পারেননি এ বাহাতি। প্রত্যাশানুযায়ী লম্বা ইনিংস খেলার কথা ছিল সৌম্যর। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ৪২ রান করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন মাত্র ২৫ রান করেই। এই ওপেনারের বড় সমস্যা হচ্ছে উইকেটে সেট হয়েও আউট হয়ে যান। তাই সৌম্য চাইবে এ ভুল শুধরে আজ লম্বা ইনিংস খেলতে।

৩. মুশফিক- দেশসেরা ব্যাটসম্যান বটে। সলিট টেম্পারম্যান্ট, সাথে অসাধারণ টেকনিক। ইতিপূর্বে ব্যাট হাতে অনেক চোখধাধানো ইনিংস খেলেছেন, দলকে বয়ে নিয়ে গেছেন নিজের ব্যাটে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও নিজের ছায়ায় ছিলেন। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলেছিলেন সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই বনে গেছেন খলনায়ক। নিজের ভুলে নিজেই রান আউট হয়েছেন। আর গ্লাভস হাতে যা করেছেন তাতে মন পুড়েছে সব টাইগার ভক্তদের। কারণ মুশফিক সেদিন নিজের ভুলে আগেই স্ট্যাম্প না ভাঙলে হয়তো অল্প রান করেও নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারতো বাংলাদেশ। তাই মুশফিক চাইবে নিজের গা থেকে পাপের কালিমা মুছে ফেলতে। আর এজন্য আজ হয়তো বড় ইনিংস খেলে ভক্তদের মনে কেটে যাইয়া দাগে প্রলেপ দিতে চাইবেন। 

৪. সাইফুদ্দিন- বোলিংয়ে এখনো পরিপূর্ণতা না আসলেও কাজ চালিয়ে নিতে পারেন। ব্যাট হাতে দ্রুত রানও তুলতে পারেন। প্রথম ম্যাচে খরুচে হলেও তুলে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে কঠিন সময়ে রান পেয়েছেন। বল হাতেও কার্যকর ছিলেন। তাই আজ এ সিমিং অলরাউন্ডার চাইবে গত ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে।

ইংল্যান্ড :

এবারের আয়োজক। শেষ চার বছরে এ দলটি খেলেছে ১৯ টি সিরিজ। জিতেছে ১৪ টিতে। জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, ইয়ান মরগানরা খেলে যাচ্ছেন ম্যাচ জয়ী সব নক। দলে আছে জোফরা আর্চার, লিয়াম প্লাঙ্কেট, ক্রিস ওকস, বেন স্টোকসদের মতো পেসাররা। তাই এবার শিরোপার অন্যতম ভাগিদার ইয়ান মরগানের দল।

শুরুটা রাজকীয়ও হয়েছিল ব্রিটিশদের। দক্ষিণ আফিকাকে হারিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল তারা। কিন্তু হোচট খেয়েছে দ্বিতীয় ম্যাচেই। পাকিস্তানের কাছে হেরে ধাক্কা খেয়েছে তারা। তাই আজকের ম্যাচে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাববে না ইংলিশরা। আর জয়ের এ ক্ষুধার জন্যই একটু বাড়তি চাপে থাকবে স্বাগতিকরা।

নজর থাকবে যাদের উপর :

১. জনি বেয়ারস্টো- বিশ্বকাপের আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন এই ওপেনার। কিন্তু বিশেকাপে এসেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন। পাকিস্তানের সাথে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ করলেও প্রথম ম্যাচে আউট হয়েছিলেন শূন্য রানেই। তাই বেয়ারস্টো আজ চাইবেন নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে।

২. জস বাটলার- ইংল্যান্ড দলের অন্যতম কান্ডারি। বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি মারকাটারি ব্যাটিং করতেও জুড়ি নেই এই ব্যাটসম্যানের। পাকিস্তানের সাথে গত ম্যাচেও খেলেছেন শত রানের ইনিংস। তাই এ ব্যাটম্যানের উইলো যদি আজো কথা বলে তবে ভুগতে হবে প্রতিপক্ষ বোলারদের। 

৩. ইয়ান মরগান- ইংল্যান্ড দলপতি। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকরী ভূমিকা রাখেন। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে খেলেছেন ৫৭ রানের ইনিংস। দলও জয় পেয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ রানের বেশি করতে পারেননি ২০০৭ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলা এই ব্যাটসম্যান। তবে জয়ের নেশায় আজ দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিতে চাইবেন মরগান। জ্বলে উঠতে চাইবেন ব্যাট হাতে। তাই আজকের ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হতে পারেন এ ব্যাটসম্যান। 

৪. জোফরা আর্চার- বলের অসাধারণ লাইন-লেন্থ। সাথে প্রবল গতি। দুইয়ে মিলিয়ে এ মুহূর্তে বিশ্বে সেরা পেসারদের একজন। টানা ১৪৫+ গতিতে বল করে যেতে পারেন। প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার সাথে ৩ উইকেট নিলেও পরেও ম্যাচে ছিলেন ছন্নছাড়া।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0200 seconds.