• ০৪ জুন ২০১৯ ১৪:৪৩:৪৭
  • ০৪ জুন ২০১৯ ১৪:৪৩:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সাদ্দাম ‘হত্যার’ বিচার কি পাওয়া যাবে?

ছবি : সংগৃহীত

সাদ্দাম হোসেন। ২২ বছর বয়সী এই তরুণ কাজ করতেন চলচ্চিত্র মাধ্যমে। বরিশাল বাবুগঞ্জ থেকে গ্রামের এই ছেলেটি ঢাকা এসেছিলো জীবিকার তাগিদে। আর জীবিকা হিসেবে বেছে নেয় তারকা ঝলকানো দুনিয়ার এক নিরব কষ্টের কাজ। নাটক, বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্রে প্রোডাকশন সহাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

শুটিং ইউনিটের ব্যবস্থাপনা দলের সহকারী হিসেবে কাজ জুটিয়ে নিয়েছিলেন। প্রচণ্ড পরিশ্রমের এই কাজ। দিন নেই রাত নেই সাদ্দামদের মতো কর্মীদের ছুটি নেই যতক্ষণ পর্যন্ত পরিচালক ‘প্যাকাপ’ না বলছেন। তবুও সাদ্দামরা এই পেশায় থেকে যায় রঙ্গিন দুনিয়ার প্রেমে পরে। এতো কষ্টের পরেও সাদ্দামদের ভালো লাগাটুকু এই যে, কত জনপ্রিয় সব নির্মাণের সাথে তারাও যুক্ত থাকেন। তারাও এর পেছনের গল্পের সাথে গল্প হয়ে ওঠেন...। যা এই ‘ভুবনের’ বাইরের বাসিন্দারা খুব আগ্রহ ভরে শোনে। হয়তো ছুটিতে গ্রামে গেলে বন্ধুরা আসে প্রতিবেশিরা আসে শুটিং পাড়ার গল্প শুনতে, তারাকাদের গল্প শুনতে। সেই সব গল্প বলতে বলতে বড় বড় তারকাদের সাথে তোলা দু একটি ছবিও সাদ্দামরা বের করে দেখায় গর্ব করে। এইসব মুহূর্তের জন্য কত গল্প জমা থাকে ভান্ডারে।

এমনই কিছু গল্প নিয়ে হয়তো ফিরছিলেন সাদ্দাম বরিশাল। কত দিন পর বাড়ি ফিরছেন। স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দ উদযাপন করবেন, কত গল্প বলবেন। ছোট ভাগনে ভাগনির জন্য জামা কাপড়ও কিনেছিলেন। দুলাভাইয়ের জন্য শার্ট কিনেছিলেন। আর কত কি...। কত হিসেব নিকেশ করে টাকা জমিয়ে কিনেছিলো সাদ্দাম এই পোশাকগুলো। সেসব নিয়েই গত ৩১ মে ঢাকা-ভান্ডারিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি ফারহান-১০ লঞ্চে ওঠেন সাদ্দাম। বাড়ি ফিরবেন...। কিন্ত তার আর ফেরা হয়নি।

দুই দিন পর মিলে সাদ্দামের লাশ। সন্ধ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কি হয়েছিলো সাদ্দামের?  সাদ্দামের দুলাভাই মাইনুল হোসেন জানিয়েছে, ‘লঞ্চের ভিতরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সে। এ সময় অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের সাথে হাতাহাতি হয় সাদ্দামের। এক পর্যায়ে লঞ্চ স্টাফরাও সাদ্দামের ওপর হামলা চালায়। এ কথা সাদ্দাম ফোন করে তাকে জানিয়েছিলো। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই সাদ্দামের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

সাদ্দামের বন্ধু আনোয়ার জানায়, সাদ্দাম আগেই টের পেয়েছিলো তাকে হত্যা করা হতে পারে। তাই সে লঞ্চে তার এলাকার নাইম নামে পরিচিত একজনকে পায়। তাকে পেয়ে স্বজনদের জন্য কেনা জামা-কাপড় দিয়ে বলেছিলো ‘আমি যদি বাড়ি নাও পৌঁছাতে পারি তুমি এগুলো পৌছে দিও।’

এরপর সাদ্দাম আর ফিরতে পারেনি। স্বজনদের দাবি যারা সাদ্দামের উপর হামলা করেছে তারাই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত। সাদ্দামের হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে নেমেছেন পরিচালক অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলীরাও। সোমবার দুপুরে মানববন্ধনও করেছেন বিচার দাবি করে।

কিছু প্রশ্নের উত্তর খুব জরুরি হয়ে পড়েছে সাদ্দাম হত্যার রহস্য উন্মোচনের জন্য। কারা সাদ্দামের উপর হামলা করেছিলো? কেন ফোন করে তার দুলাভাইকে লঞ্চের কর্মচারীদের সম্পর্কে মারধরের অভিযোগ তুলেছিলো? পরিবহন শ্রমিকদের মাস্তানি ও যাত্রী হয়রানী নির্যাতনের ঘটনা নতুন কিছুনা। এর মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারন করে প্রায়ই। দেখা গেছে পরিবহনের মালিক ক্ষমতাধর হলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের কর্মীরাও যাত্রীদের নাজেহাল করে থাকেন।

সাদ্দাম যদি কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে তাকে ধরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসারদের হাতে তুলে দেয়া যেত। কিন্তু কেন লঞ্চ কর্মচারীরা তাকে মারধর করেছিলো?

যে সাদ্দামের জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছিলো পরিবারের সদস্যরা তার আজ মর্গে দাড়িয়ে আহাজারী করছে। কোথায় যাবে কার কাছে বিচার চাইবে তারা? দারিদ্রতার অসহায়ত্ব নিয়ে কত দরজায়ই বা কড়া নাড়ার সুযোগ আছে তাদের?

লেখক: সাংবাদিক ও নির্মাতা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0193 seconds.