• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৮ মে ২০১৯ ১৪:০৭:০৪
  • ২৮ মে ২০১৯ ১৭:১৬:১৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রাফি হত্যায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড চায় পিবিআই

নুসরাত জাহান রাফি। ফাইল ছবি

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও ফেনী আওয়ামী লীগের দুই নেতাসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে আগামীকালই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হবে। মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

চার্জশিটে ১৬ জনের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে পিবিআই।

চার্জশিটে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- এস এম সিরাজউদ্দোলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম(২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের(২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাতে আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা, আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জন জড়িত বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ মামলায় সিরাজ-উদ দৌলা, রুহুল আমিনসহ ২১ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

নুজরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসা সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতেম মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান। এ সময় মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা পিবিআইয়ে হস্তান্তরের পর এখন পর্যন্ত মামলার এজহারভুক্ত আট আসামিসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আটজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

অন্যদিকে থানায় নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পিবিআই। ব্যরিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন কর্তৃক গত ১৫ এপ্রিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষে গত রোববার সাইবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এরপর সোমবার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.