• ২৭ মে ২০১৯ ১৭:২৮:৩৭
  • ২৭ মে ২০১৯ ১৭:২৮:৩৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রক্তের প্রয়োজনে 'হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাব'

ছবি : সংগৃহীত

এসকে শাওন: প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রক্তের জন্য হাহাকার চলে। যেখানে কেউ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রক্তের প্রয়োজন অনুভব করে সেখানেই বেঁচে থাকার আলোকবর্তিকা হাতে ছুটে যান তারা।স্বেচ্ছায় রক্ত সংগ্রহ করে দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারা। বলছিলাম 'হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাব' এর কথা।

'আমার রক্তে যদি বাঁচে একটি প্রাণ, তবে আমি কেন করবোনা রক্ত দান' এই স্লোগানে ২০১৬ সালের ৪ মে চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাব। সংগঠনটির যাত্রা কুমিল্লা থেকে শুরু হলেও বর্তমানে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা মানুষের জন্য রক্ত সংগ্রহ করে।

হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয় সদস্যদের চাঁদা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আর্থিক অনুদানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় তারা মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করে।তাছাড়াও সরেজমিনেও তাদের প্রচারণা চলে। বর্তমানে ফেসবুকে তাদের গ্রুপ মেম্বার ৫৪ হাজারেরও বেশি।দেশের প্রায় সকল জেলায় তাদের সদস্য রয়েছে।কুমিল্লায় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পাশাপাশি শাখা কমিটি রয়েছে ঢাকা, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে। উক্ত অঞ্চলগুলোতে প্রতিমাসে ২-৩ বার বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পিং করা হয়। রক্তদানের পাশাপাশি সংগঠনটি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন,বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ, শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের সদস্য রয়েছে। সেখানে প্রবাসী বাঙালীরা নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সহযোগিতা করেন।

হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের সদস্য ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সংগঠনটির সম্পর্কে বলেন, 'একবার আমার মা অসুস্থ হওয়ার পর ও নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন পরে। তখন আমি বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ও নেগেটিভ রক্ত পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত রক্ত পেলেও আমাকে খুব হয়রানির শিকার হতে হয়। তখন থেকেই ভাবলাম এমন কিছু একটা করা উচিত,রক্তের জন্য যাতে কাউকে হতাশ না হতে হয়। সেই চিন্তা থেকেই আমরা হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাব গড়ে তুলি।'

স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটির ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা বাংলাদেশের সকল জেলায় হিউম্যান ব্লাড ডোনার্স ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। যাতে করে রক্তের জন্য কোন মানুষের কষ্ট না হয়। এছাড়াও আমরা একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এতে করে আমরা অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে যেকোন রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় সহযোগিতা করতে পারবো।'

তিনি আরও বলেন, 'রক্ত দেওয়ার যে কি অনুভূতি, রক্ত না দিলে সেটা কেউ বুঝতে পারবে না। তারপরও বলবো রক্ত দিতে পারলে একটা মানসিক প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি অনুভব করা যায়।'

সংগঠনটির আরেক সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র মেহেদী হাসান সৈকত বলেন, 'মানুষ হিসেবে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা রক্তদান করে এবং রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে সমাজের মানুষের সেবা করতে চাই।'

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0186 seconds.