• ২৫ মে ২০১৯ ১৬:১২:৫৭
  • ২৫ মে ২০১৯ ১৬:১২:৫৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যে কারণে মোদীর জয় অনিবার্য ছিলো!

নরেন্দ্র মোদী। ছবি : সংগৃহীত

অনেকের মাথায় হাত, অনেকে চোখ কচলে নিশ্চিত হতে চাইছেন। অনেকে স্রেফ তব্দা মেরে গেছেন। ভাবছেন, এটা কী হলো, কীভাবে সম্ভব এই অসাধ্য সাধন? এতো ঘৃণা, এতো বিরোধিতা, এতো গালাগাল, বিপক্ষে বললো এতোগুলো কণ্ঠস্বর। কৃষক-বেকার সবাই মিলেও আটকাতে পারলোনা এই কর্পোরেট জয়যাত্রা।

সবার সব সমীকরণকে মিথ্যা প্রমাণিত করে আবারো ক্ষমতায় ফিরলেন কিং অব কিংস নরেন্দ্র মোদী। শত্রু শিবিরকে তো কাচকলা দেখালেনই সাথে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে। অবশ্য আগে থেকেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো, মোদী জিতবেন।

বুথফেরত জরিপও বলছিলো একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। মোদীই বসছেন গদিতে। অনেকেই আবার একথায় বিশ্বাস রেখেছিলেন। মোদী আসছেন, তবে কীভাবে আসছেন সেটা জানাছিলো না তাদেরও। আর জানলেও ২৩ মের মতো করে জানতেন না অনেকে।

মোদীর এই ফেরা নায়কোচিত, বিস্ময়কর। নির্বাচনের আগেও যে মোদীর জনপ্রিয়তা হিমাঙ্কের নীচে। বেকারত্ব, কৃষক অসন্তোষ, বিরোধীদের মহা ঘটবন্ধন সব মিলিয়ে যার নাকানি চুবানি খাওয়ার দশা। সেই তিনিই কিনা ভোটের বাক্সে পেলেন অকুণ্ঠ সমর্থন। জনগণ ফের তাকেই চাইলো! ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়া কৃষকরা তাকেই ভোট দিলো? বেকার যুবকরাও টিপলো ইভিএমের পদ্ম আঁকা বোতাম? কিন্তু কেন?

এবারের নির্বাচনী প্রচারেওতো মোদী তেমন কোনো মহাচমক দেখাতে পারেননি। বারবার একই বুলি আওড়েছেন। ওই একই গান দেশ সুরক্ষায় আরো একবার বিজেপিকেই চাই। ব্যস, এতেই মানুষ পেছনের সবকথা ভুলে গেলো? মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে ভোট দিলো বিজেপিতে! দলটির ইশতেহারেওতো তেমন কোনো চমক ছিলো না, সেই ২০১৪’র কাগজগুলো একটু ঘষে মেজে আবার প্রিন্ট করা আরকি। স্রেফ দিতে হয় তাই দেয়া ধরনের।

এসবের পরও যেভাবে মোদী ফিরেছেন, তাতে অনেক বিজেপি সমর্থকেরও হয়তো চোখ ছানাবড়া। ঢোকগিলতে বাধ্য হয়েছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকও। এই ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টোরির রহস্য উন্মোচনেও অনেকের কেটে যাবে কয়েকমাস। গত পাঁচবছরে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ঝিমোতে থাকাও মোদীও হয়তো এমন জয়ে যারপরনাই বিস্মিত বনে গেছেন। মুখ ফুটে না বললেও হয়তো মনে মনে বলছেন, ‘আহা কী কাণ্ড'। কোন কোন জাদুর চেরাগ এই বিস্ময়ের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে এবার সেদিকে চোখ রাখা যাক।

১. ধর্মীয় উগ্রবাদ (হিন্দুত্ববাদ) :

গুজরাট দাঙ্গায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে চাওয়ালা থেকে চৌকিদার বনে যাওয়া মোদীর নাম। যেই দাঙ্গার মূলে আছে ধর্ম। এ দাঙ্গা মোদীকে যেমন এক মহলে সমালোচিত করে, তেমন উগ্রপন্থি মহলে করে জনপ্রিয়। লাইমলাইটে আসেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদী। আলোচনা-সমালোচনায় বাড়ে তার প্রচার। বিজেপির পাশাপাশি উগ্রপন্থি ধর্মীয় গোষ্ঠী আরএসএসের সদস্যও মোদী। যদিও এখন আর তাকে সক্রিয় আরএসএস কর্মীয় ভূমিকায় দেখা যায় না।

যোগব্যায়ামে পারদর্শী মোদী, পূজাপার্বণেও অপারগ নয়। সময়ে অসময়ে তিনি পুরোহিতর মতো মন্ত্র পড়ে নেমে যান গঙ্গায়, ভোটের আগের রাতে ধ্যানে বসেন সবধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা সংবলিত কেদারনাথ গুহায়। গায়ে জড়ান গেরুয়া বসন। সব মিলিয়ে সাচ্চা হিন্দুমোদী। পাশাপাশি ঠোঁটে-মুখেতো সদাই বিরাজ করে মুসলিম বিদ্বেষীবয়ান। যা এখনো ভারতের রাজনীতিতে অন্যতম তুরুপের তাস।

২. উগ্রজাতীয়তাবাদের বুলি :

২০১৪ সালে কট্টর জাতীয়তাবাদের বুলি আওড়ানো মোদী এবারও হাজির হয়েছেন মহানদেশ প্রেমিকের ভূমিকায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার পর আরো তীব্র হয়ে ওঠে মোদীর জাতীয়তাবাদী স্লোগান। পাকিস্তানকে শায়েস্তা করার জোর বুলি আওড়াতে আওড়াতে ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে মোদী বাহিনী হামলা চালায় পাকিস্তানের বালাকোটে। সে হামলায় আদৌ কোনো কাজ না হলেও আবারো মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যায় ভারত-পাকিস্তান।

এই উত্তেজনা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল নিজের কোর্টে নেয়ার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওঠেন মোদী। নির্বাচনী প্রচারে সারাটা মাস জোর গলায় বলতে থাকেন, একমাত্র তিনিই পাকিস্তানকে শায়েস্তা করার সামর্থ্য রাখেন, বাকিরা কাপুরুষ। সাথে সবাইকে জানিয়ে দেন নিজের বুকের মাপ, একটুও কম নয় পাক্কা ৫৬ ইঞ্চি। নিজের নামের আগে জুড়ে দেন চৌকিদার।

৩. কাশ্মীরইস্যু :

মোদীর ভোটবাক্স জয়ের আরেক তুরুপের তাস চির অশান্তির আগুনে পোড়া কাশ্মীর। পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীর বিরোধী মনোভাব আরো চাঙা হয়ে ওঠে। ভারতজুড়ে ওঠে কাশ্মীর বিরোধী স্লোগান। আর সেই পাব্লিক সেন্টিমেন্ট কাজে লাগিয়ে মোদীর বিজেপি ইশতেহারে জুড়ে দেয় কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় প্রতিশ্রুতি। বলা হয় আবার বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই বাতিল করা হবে সংবিধানের ৩৫এ ও ৩৭০ ধারা। যেধারার বলে বিশেষ রাজ্যের সুবিধাভোগ করে কাশ্মীরিরা, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা পায় বিশেষ নিরাপত্তা। আসলে এটা কাশ্মীরিদের জন্য বিশেষ সুবিধা নাকি বিশেষ অসুবিধা সেএক আলোচনা সাপেক্ষ বিষয়।

৪. অনুপ্রবেশকারী তাড়ানোর স্লোগান :

মোদী আমলে আরেক উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনআরসিবা নাগরিকপঞ্জি। যার জোরে আসামের চল্লিশ লাখ বাঙাভাষী মুসলমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি সরকার। যদিও শেষপর্যন্ত রাজ্যসভায় এনআরসি সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপনের সুযোগ পায়নি মোদী সরকার। তবুও পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশ লাগোয়া সব রাজ্যেই নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশকারীদের ঝেটিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলার কথা বলেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সাথে ধ্রুপদী সংগীতের মতো ধীর লয়ে সুর মিলিয়েছেন মোদীও। যদিও ধর্মপ্রাণ মোদী বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা নির্যাতিত নিপীড়িত হিন্দুরা পাবে শরণার্থীর মর্যাদা। মুসলিম ছাড়া বাকি ধর্মের লোকদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।

৪. কর্পোরেট স্বার্থরক্ষা :

মোদী গেলো পাঁচবছরে কৃষক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি, জাতিগত বিভাজন দূর না করতে পারলেও আগাগোড়া কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করে চলেছেন। রাফায়েল প্রকল্পের ভার সপেছেন আম্বানিদের হাতে। কয়লা খনি তুলে দিয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী পকেটে। নানা পর্যায়ের ধনীদের সাথে ছিলো তার বিস্তর যোগাযোগ। গেছেন অমুক তমুকের ছেলেমেয়ের বিয়েতেও। আবার অনেককে করেছেন তার সফর সঙ্গী, এনে দিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগ। সবমিলিয়ে গায়ে কাদা-মাটি মাখা কৃষকরা মোদীর ওপর অসন্তুষ্ট হলেও বরাবরই সন্তুষ্ট ছিলেন কোটটাইয়ে সুগন্ধ লাগিয়ে পার্টি কাঁপিয়ে বেড়ানো কেতাদুরস্ত ব্যবসায়ীরা। ফতুয়া পরিহিত মোদী সবভাবেই তাদের মন জুগিয়ে চলেছেন। আর কর্পোরেট পুঁজিপতিরা যার পকেটে বা যিনি কর্পোরেটদের পকেটে তাকে গদি থেকে নামাবে খেটে খাওয়া প্রলেতারিয়েতদের সে সামর্থ্য কোথায়?

৫. পশ্চিমবঙ্গে গোলমাল :

নির্বাচনে গোটা ভারতে যে উত্তাপ ছড়িয়েছে, তার চেয়ে বেশি উত্তপ্ত ছিলোপ শ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মোদীর বাগযুদ্ধ আগাগোড়া ছিলো আলোচনায়। এ একে স্পিডব্রেকার দিদি বলেছেন তো, ও তাকে বলেছেন চোর। আর এই চোর-পুলিশ খেলায় শেষ ফায়দা গেছে মোদীর পক্ষে। এতো দিন মমতার রাজ্যে বিজেপি সুবিধা না করতে পারলেও এবার মোদী অমিতের ঘনঘন আনাগোনা পাল্টে দিয়েছে চিত্রপট। মাত্র পাঁচবছর আগে ২ আসন পাওয়া গেরুয়া বাহিনী এবার মমতাকে টক্কর দিয়েছে সমানে সমান। দিদিকে স্রেফ খাবি খাইয়ে ছেড়েছে। আর এ জন্য অনেকাংশেই দায়ী মমতার স্বৈরশাসন। তার অত্যাচারে অতিষ্ট বামরাও এবার গোপনে ঝুঁকেছে গেরুয়ার দিকে। খাল কেটে কুমির আনা যাকে বলে। আর বাকি কাজটা করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদ। মোদী আমলে পশ্চিমবঙ্গে বেশভালোভাবেই পাখা মেলেছে শিবসেনা আর আরএসএস জাতীয় কট্টর হিন্দত্ববাদী সংগঠনগুলো।

৬. ওয়ানম্যান আর্মি মোদী :

বাকিরা যখন কে হবেন প্রধানমন্ত্রী সেই আলোচনায় মগ্ন, তখন মোদী নিজেকে হাজির করেছেন ওয়ানম্যান আর্মি হিসেবে। নিজেকে গোটা ভারতবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন এক ও অদ্বিতীয় রূপে। এনডিএ জোটের অন্যরাও বাকি সকল কিছু গৌণ করে, নিজেরা মৌণ থেকে মোদীকে করে তুলেছে মহান। শেষ অবধি ব্যাপারটা এই জায়গায় ঠেকেছে যে মোদীই একমাত্র যোগ্য নেতা। তারচেয়ে দেশ চালানোর পারঙ্গম আর কেউ নেই। শুধু দেশ নয় মোদী বিদেশি সহায়তাও পেয়েছেন। নির্বাচন চলাকালেই বন্ধুত্ব উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় মোদীকে সম্মাননা দিয়েছে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

৭. বৃহৎ প্রকল্পের ঝনঝানি :

অন্যসব গণতান্ত্রিক দেশের মতো মোদীও পাঁচ বছরে চালু করেছেন বেশকিছু চোখ ধাঁধানো প্রকল্প। জাতীয়তাবাদের জিকির তুলতে যেমন বানিয়েছেন সর্দার প্যাটেলের বৃহদাকার মূর্তি, তেমন হাতে নিয়েছেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। ঘুঁটের পরিবর্তে কিছু পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন গ্যাসসিলিন্ডার। অরুণা চলে বিশাল ব্রিজ বানিয়েছেন। দেশ সুরক্ষায় রাফায়েল কিনেছেন। যদিও এই রাফায়েল বিতর্ক তাকে বেশ ভুগিয়েছে।

মোটাদাগে এই কারণগুলোর সাথে আছে বিরোধীদের ব্যর্থতা। নির্বাচনের আগে মোদী হঠাও স্লোগান তুলে মহাজোট গঠনের আভাস দিলেও শেষ অবধি তা হয়ে ওঠেনি। যেকারণে মোদীর বিরুদ্ধেও গড়ে ওঠেনি কোনো বৃহৎ প্রতিরোধ। উল্টো বিরোধীরাই মত্ত হয়ে ছিলেন নিজেদের সমালোচনায়, আত্মহননের নগ্ন খেলায়। ফল, মোদীর পথ সুগম। তাছাড়া গরীবদের বছরে ৭২ হাজার টাকা দেয়া, কৃষি ঋণ মওকুফ, বেকারত্ব দূর করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষপর্যন্ত তেমন কোনো ধামাকা দেখাতে পারেনি ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। যেকারণে মানুষও তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারেনি।

যদি এর প্রত্যেকটা কারণ বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করা হয়, তবে মনে হতে পারে এগুলো বিজেপির জয়ের ছোটো খাটোকারণ; তেমন বড়ো কিছু নয়। জয়ের পেছনে আছে আরো বড় কারণ। যেমন ধরুন ব্যাপকহারে ইভিএম জালিয়াতি। সে হতেই পারে। এই কথিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো আশঙ্কাই আর ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। ক্ষমতার জন্য এ গণতন্ত্রের চৌকিদাররা অনায়াসে চোর বনে যেতে পারে, হতে পারেন ডাকুও। বঙ্গভূখণ্ডই তার বড়ো প্রমাণ।

উপরের সবগুলো বিষয় যদি এক করে দেখা যায়, তবে মোদীর নিরঙ্কুশ জয়টাকে খুব বেশি অমূলক মনে হবে না। যতোভাবে মানুষকে পক্ষে টানা যায় তার সবটাই করেছেন মোদী। তিনি ভিন্নভিন্ন কৌশলে এতাবদ্ধ করেছেন সূক্ষ্মভাবে। যে কৌশল ধরতে পুরোপুরি ব্যর্থ বিরোধীরা। আর বিশ্ব রাজনীতির দিকে চোখ রাখলেই দেখা যাবে সব বৈশ্বিক রাজনীতিই এখন মোদীদের অনুকূলে। সবদেশেই গজাচ্ছে উগ্রপন্থার চারাগাছ। বড় হচ্ছে কট্টর তার বিষবৃক্ষ, প্রসারিত হচ্ছে ঘৃণার রাজনীতির ডানা।

লেখক ও সাংবাদিক

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0189 seconds.