• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ মে ২০১৯ ১০:৪৩:১৬
  • ২৩ মে ২০১৯ ১০:৪৩:১৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

গভীর সমুদ্রে নেটওয়ার্ক দিচ্ছে জিপি, তবে মেলে না ঘরে!

ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান যুগ ইন্টারনেটের যুগ। ইন্টারনেট ছাড়া থাকা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ফোরজি নেটওয়ার্ক মিলছে এমনটাই দাবি দেশের টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এদিকে সম্প্রতি গ্রামীণ ফোন জানিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্ক সমুদ্রের ৩৮ কিলোমিটার গভীরেও পাওয়া যায়। তবে সমুদ্রের গভীরে নয় গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই স্থলে বাস করা গ্রাহকদের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর একটি আদর্শ গ্রাম। আশেপাশের আরো ৫-১০টি গ্রামের থেকে আলাদা এই গ্রামটি। পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই এগিয়ে রয়েছে এই গ্রামটি। কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে এই গ্রামের মানুষ হতাশ। এই গ্রামের অনেক মানুষ প্রবাসী। তাই পরিবারের সাথে প্রবাসীরা ইন্টারনেটে কথা বলে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে।

গ্রামের ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামীণফোন ব্যবহার করে। কিন্ত দু:খের বিষয় এখন এই গ্রামের মানুষ ঘরের ভিতরে ইন্টারনেটে তো দূরের কথা মোবাইল নেটওয়ার্কেও ঘরের ভেতরের কথা বলতে পারছেন না। এলাকাবাসী জানিয়েছে, কয়েকমাস ধরে এই নেটওয়ার্ক সমস্যা করছে। আগে এই রকম সমস্যা ছিল না। 

তুষার চন্দ্র অভিযোগ জানিয়ে বাংলা’কে বলেন, ‌‌‘আগে বাড়িতে পরিবারের সাথে কথা বলতাম ইন্টারনেটে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারে করে। কিন্তু এখন আর ইন্টারনেট তো দূরের ব্যাপার মোবাইল নেটওয়ার্কেও ব্যবহার করে ফোনেও কথা বলতে পারি না। ঘরের বাইরে গেলেই একটু কথা বলা যায়।’

গ্রামের বাসিন্দা আনারুল হক জানিয়েছে, ‘আমাদের গ্রামের ঘরের ভিতরে ঢুকলে গ্রামীণফোনের কোন নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ইন্টারনেটে অনেক কাজ করতে হয়, তা করতে পারি না। বেশ কয়েকবার গ্রামীণফোনে অভিযোগ করলে কোন ধরনের সমাধান পাইনি।’

আশরাফুল ইসলাম হতাশা জানিয়ে বলেন, ‘শুনেছি গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক নাকি সমুদ্রের ৩৮ কিলোমিটার গভীরের পাওয়া যাচ্ছে। এখন এই গ্রামের মানুষ ঘরের ভেতর নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের মানুষের সাথে এক ধরনের মজা নেয়।’

ঐ গ্রামে বাস করেন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ৩ ছেলে দেশের বাইরে থেকে ইন্টারনেটে ফোন দেয়, আগে সন্তানদের দেখে দেখে কথা বলতাম। এখন আর তা পারি না। ঘরের ভিতরের কথা বলতে পারি না, বাইরে গেলে একটু কথা বলতে পারি। যখন তখন চাইলেই তো ঘরের বাইরে যাওয়া যায় না। বিশাল সমস্যায় আছি।’

একই সমস্যা নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ খানার বড়বিটা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে। এই গ্রামের মানুষ ঘরের বাহিরেও কথা বলতে পারেন না। তাদের কথা বলতে গেলে হাঁটাহাঁটি করতে হয়। এই ইউনিয়নের একটি স্কুলে আইটি শিক্ষকতা করে জুয়েল। তিনি বাংলা’কে জানান, বড়বিটা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কোন মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের যন্ত্রণায় ঠিক মত কথা বলতে পারে না। এখানে শুধু ঘরে না বাহিরেও কথা বলা যায় না। বাহিরে গিয়ে কথা বললে এক জায়গায় স্থির হয়ে কথা বলা যায় না, কথা বলার সময় হাঁটাহাঁটি করতে হয়। সব টেলিকম প্রতিষ্ঠানেরই সমস্যা, তবে সবচেয়ে বেশি গ্রামীণফোনের। 

তিনি আরো জানান,  এই নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে গ্রামীণফোনের কাছে অনেক বার জানিয়েছি, কোন সমাধান হয়নি। সবশেষ, গ্রামীণফোনের ১২১ থেকে কল করে জানিয়েছে আপনাদের এখানে নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে কাজ করা হয়েছে। কিন্ত আমরা নেটওয়ার্কের কোন ধরনের উন্নতি হতে দেখিনি। আগে যা ছিল এখনোও তেমনি আছে। 

বিষেজ্ঞদের মতে, একটি দেশ পুরো ডিজিটাল হতে হলে দেশের প্রত্যেকটি জায়গা সমানভাবে ডিজিটাল সুবিধা পেতে হবে। শুধুমাত্র রাজধানী বা জেলা শহরগুলো ডিজিটাল সেবার আওতায় আসলে হবে না। গ্রাম ডিজিটাল সেবার আওতায় আসতে হবে। তবেই ডিজিটাল দেশ গড়া সম্ভব। 

এই বিষয় জানতে বাংলার পক্ষ থেকে গ্রামীণফোনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্ত গ্রামীণফোন ফোন রিসিভ করেনি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

গ্রামীণফোন নেটওয়ার্ক

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.