• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ মে ২০১৯ ১৪:৫১:১৫
  • ২০ মে ২০১৯ ১৪:৫১:১৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

দুর্নীতির প্রতিবাদে বালিশ হাতে রাস্তায়

ছবি : সংগৃহীত

পাবনায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের আসবাপত্র কেনা এবং সেগুলোর বহন খরচ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিবাদে ‘বালিশ বিক্ষোভ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে ‘গণঐক্য’ ও ‘নাগরিক পরিষদ’ নামের দুটি সংগঠন হাতে বালিশ নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভকারীদের একটি পোস্টারে লেখা ছিল- ‘কে দেখবে এই দুর্নীতি? কে থামাবে এই মহামারী?’

অন্য একটি পোস্টারে লেখা ছিল- ‘কৃষক পায় না ফসলের দাম, চারদিকে লুটপাটের জয়গান।’

গত কয়েক দিন ধরে দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে আসবাবপত্রসহ

অন্যান্য আনুষঙ্গিক পণ্য অস্বাভাবিক দামে কেনা ও সেগুলো ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয় নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে।

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ওই ভবনের জন্য এক হাজার ৩২০টি বালিশ কেনা হয়েছে। এদের প্রতিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ভবনের ওপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা!

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, শুধু বালিশের বিষয়েই নয় প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তোলার ব্যয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

সরকারি আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের এমন অসঙ্গতির ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা জেলার পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে হচ্ছে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১১টি ২০তলা ও ৮টি ১৬তলা ভবন করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ৯টি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এই ৯টি ভবনে মোট ফ্ল্যাট আছে ৯৬৬টি। সেই ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে ২০তলা একটি ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

এ ঘটনাকে ইতিহাসের সেরা লুট বলে আখ্যায়িত করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দিন বলেন, ‘যেখানে একটি বালিশের বাজার মূল্য ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সেখানে একটি বালিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ছয় হাজার টাকা। দেশে যে সীমাহীন দুর্নীতি চলছে এটি তার একটি নমুনা মাত্র।’

এদিকে, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কেনাকাটায় ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0222 seconds.