• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৫ মে ২০১৯ ২২:০৬:২৮
  • ১৫ মে ২০১৯ ২২:০৬:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

শ্রীলংকায় মুসলিম মালিকানাধীন কারখানা পুড়িয়েছে উচ্ছৃঙ্খল জনতা

ছবি : সংগৃহীত

শ্রীলংকায় গত এপ্রিলে ইস্টার সানডেতে গির্জায় হামলার জের ধরে মুসলমানরা বিভিন্নভাবে হামলার শিকার হচ্ছেন।  মুসলিমদের বাড়িঘরে, দোকানপাটে অব্যাহত হামলার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ রাজধানী কলম্বোয় মুসলমান মালিকানাধীন একটি কারখানা পুড়িয়ে দিয়েছে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা।

মঙ্গলবার বিবিসি প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী কলম্বোর ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মিনুওয়াংগোদা শহরের মুসলমান মালিকানাধীন একটি কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে।  আগুনের লেলিহান শিখায় ভবনের একটি প্রান্ত পুড়ে যেতে দেখা গেছে।   

এই ঘটনার একদিন আগে অর্থাৎ সোমবার পুত্তালাম জেলার একটি কাঠের দোকানে ৪৫ বছর বয়সি একজন মুসলিম ব্যক্তিকে তরবারির আঘাতে হত্যা করে উচ্ছৃঙ্খল জনতা।  এই দাঙ্গার পর সরকার দেশজুড়ে আবারও কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।  প্রসঙ্গত, ইস্টার সানডের হামলার পরেও দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছিল।

এদিকে কলম্বোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রঞ্জিথ শ্রীলংকাজুড়ে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।  তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।   

শ্রীলংকার মুসলমান সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এধরনের বিদ্বেষপরায়ণ হামলার ঘটনায় ভয় পাবেন না।  ধৈর্য ধরুন।  আমাদের এমন একটি নতুন শ্রীলংকা গঠন করতে হবে যেখানে সব জাতি এবং ধর্মের লোক একসাথে বাস করতে পারবে। ’

আর্চবিশপ ইস্টার সানডের হামলাকে শ্রীলংকার ইতিহাসের জন্য খারাপ একটি অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।  তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এবং পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেজন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।  

এদিকে মিনুওয়াংগোদা, মাতারা এবং পুত্তালামে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা উস্কে দেয়ার অভিযোগে ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  এদের মধ্যে তিনজন এনজিও নেতাও রয়েছেন।  

উল্লেখ্য, ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিন শ্রীলংকার তিনটি গির্জা এবং কয়েকটি হোটেলে বোমা হামলায় ২৫৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।  মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস স্থানীয় জঙ্গিদের সহায়তায় এই হামলা করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।  এরপর থেকে দেশটির সংখ্যালঘু খ্রিষ্টানদের মধ্যে মুসলিম বিরোধী মনোভাব বেড়ে যেতে থাকে।  বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের উপর হামলার ঘটনাও বেড়ে যেতে থাকে।

মসজিদ, মুসলিম মালিকানাধীন দোকানপাট, কারখানা এবং গাড়িও এই হামলার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।  যদিও বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলংকায় মুসলমান এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটতে দেখা যায়নি।  কিন্তু ইস্টার সানডের হামলা সবকিছুই বদলে দিয়েছে।    

বাংলা/এফকে  

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0224 seconds.