• বিদেশ ডেস্ক
  • ১০ মে ২০১৯ ১৫:১৩:১৮
  • ১০ মে ২০১৯ ১৫:২০:২৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ফিলিস্তিন নিয়ে ট্রাম্পের করা শান্তি চুক্তি ফাঁস

ছবি : বিবিসি থেকে নেয়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তান সমস্যা সমাধানের লক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা শান্তি চুক্তি ফাঁস হয়েছে। বহুল আলোচিত এই চুক্তিটির নাম ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’। মূলত মধ্যেপ্রাচ্যের এ দু’দেশটির মধ্যে বিরাজমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনের জন্য ট্রাম্প এই শান্তি চুক্তিটি তৈরী করেন।

সম্প্রতি ইসরায়েলি সংবাদ সংস্থা ইসরায়েল হাইয়োম’র বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে পার্স টুডে। পত্রিকাটি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাঝে বিতরণ করা নথির বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, নথিতে থাকা শর্তাবলীর অংশবিশেষ ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপে উল্লেখও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাই ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জারেড কুশনার এবং ইসরাইল বিষয়ক উপদেষ্টা জ্যাসন গ্রিনব্ল্যাট।

ফাঁস হওয়া নথি জানা যায়, ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পিএলও এবং হামাসের মধ্যে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বর্তমানে দখলে থাকা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আর নতুনে এই রাষ্ট্রটির নাম হবে ‘নয়া ফিলিস্তিন’। চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছরের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং পরের ৩ বছরের মধ্যে ইসরায়েল সরকার ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেবে।

সেখানো আরো বলা হয়, জেরুজালেম বর্তমানের ন্যায় অবিভক্তই থাকবে। তবে শহরের দায়িত্ব ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মাঝে ভাগ করে দেয়া হবে। ইসরায়েলের হাতে শহরটির সাধারণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আর জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা হবেন নয়া ফিলিস্তিনের নাগরিক। জেরুজালেমে ইসরায়েলের পৌরসভার কাছে শহরটির জমি সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকবে এবং নয়া ফিলিস্তিন ইসরায়েলের ওই পৌরসভাকে কর দেবে। এর বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের শিক্ষাদীক্ষার দায়িত্ব পালন করবে তারা।

জেরুজালেমের পবিত্র নগরীর বিদ্যমান অবস্থা বহাল থাকবে। ইহুদী ইসরাইলিরা সেখানে জমি কিনতে পারবেন না। তেমনি ফিলিস্তিনিরাও জমি কিনতে পারবেন না। অপরদিকে পশ্চিমতীরে থাকা ইসরাইলি বসতি, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ ধরা হয়, সেগুলো ইসরাইলের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে।

জেরুজালেমে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের জনসংখ্যা আনুমানিক ৪ লাখ ৩৫ হাজার। তাদের সবার কাছে ইসরায়েলের স্থায়ী নাগরিকত্ব সনদ আছে। শহরের বাইরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস করলে দেশটি এই সনদ বাতিল ঘোষণা করতে পারে। তবে সেখানে তাদের কোনো প্রকার নাগরিক অধিকার নেই।

চুক্তি অনুসারে, গাজা উপত্যকার জন্য অতিরিক্ত ভূখণ্ড দেবে মিশর। সেখানে বিমানবন্দর, কারখানা, বাণিজ্যিক ও কৃষি কেন্দ্র থাকবে। তবে সেখানে ফিলিস্তিনিরা বসবাস করতে পারবেন না। এ বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বর্তমানে বিচ্ছিন্ন থাকা গাজা ও পশ্চিম তীরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে মাটির ৩০ মিটার উপরে একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই মহাসড়কটির নির্মাণ খরচের ৫০ ভাগ বহন করবে চীন। আর ১০ ভাগ করে বাকী ৫০ ভাগ খরচ বহন করবে দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকা ও ইইউ।

নয়া ফিলিস্তিনের কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। শুধু পুলিশ বাহিনী থাকবে। নয়া ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি সুরক্ষা চুক্তি সই হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী নয়া ফিলিস্তিনকে বৈদেশিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে ইসরাইল। বিনিময়ে ইসরাইলকে অর্থ পরিশোধ করবে ফিলিস্তিন। প্রয়োজনে আরব দেশগুলোও ইসরাইলকে অর্থ পরিশোধ করবে।

এই চুক্তি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করবে আমেরিকা, ইইউ এবং  অজ্ঞাত কিছু উপসাগরীয় দেশ। নয়া ফিলিস্তিনে বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের জন্য ৫ বছরে তিন হাজার কোটি ডলার দেয়া হবে। এ অর্থের মধ্যে আমেরিকা ২০, ইইউ ১০ ও উপসাগরীয় দেশগুলো ৭০ ভাগ বহন করবে।

ট্রাম্পের এই তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনায় আরো বলা হয়, চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার পর হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নিজেদের সমস্ত অস্ত্র মিশরের কাছে জমা দেবে। বিনিময়ে হামাস নেতাদের ক্ষতিপূরণ ও মাসিক বেতন দেবে আরব রাষ্ট্রগুলো।

সেখানে আরো উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের টার্মিনাল ও ক্রসিংয়ের মাধ্যমে গাজার সীমান্ত বহিঃর্বিশ্বের জন্য খুলে দেয়া হবে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি সমুদ্র ও বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিরা দেশটির সমুদ্র ও বিমান বন্দর ব্যবহার করতে পারবে।

চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে না চাইলে সেখানে শাস্তি প্রসঙ্গে বলা হয় , পিএলও এবং হামাস এই চুক্তি স্বাক্ষর না করলে তাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। সেক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিরা আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে এমন সব প্রকল্পে আমেরিকা অর্থায়ন বন্ধ করবে এবং অন্যদেরকেও তা করতে বলবে। আর যদি পিএলও চুক্তি সই করে, কিন্তু হামাস ও ইসলামি জিহাদ-ই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে ইসরায়েল। আর এতে পূর্ণ সমর্থন থাকবে আমেরিকার। আবার ইসরায়েল যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে দেয়া সকল আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেবে।

উল্লেখ্য, আমেরিকা এর মধ্যেই ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ও জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি হাসপাতালে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0210 seconds.