• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৭ মে ২০১৯ ২০:০৩:৩৯
  • ০৭ মে ২০১৯ ২০:০৩:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অবৈধ সিগারেটে বছরে রাজস্ব ক্ষতি প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া কমদামী সিগারেটের কারণে সরকারের ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে এসব অবৈধ সিগারেটের কারণে বছরে প্রায় দু হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে দেশ। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য সিগারেটে উচ্চহারে ভ্যাট ও কর বসায়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন ম‚ল্য ২৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়। এর আগে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এই সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন ম‚ল্য ২৩ থেকে ২৭ টাকা এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ১৮ থেকে ২৩ টাকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ তিন বছরে সিগারেটের ম‚ল্য বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। 

বর্তমানে সরকার সিগারেটের নিম্নস্তরের থেকে ৭১ ভাগ ও উচ্চস্তর থেকে ৮১ ভাগ রাজস্ব আদায় করে। সরকারের এই দাম বাড়ানোর সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীগন। তারা ঢাকার বাইরে রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন করছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব সিগারেটের প্যাকেটে রাজস্ব ফাঁকি দিতে নকল ও পুন:ব্যবহৃত ট্যাক্স স্ট্যাম্প লাগানো হয়। ফলে অবৈধ এই সিগারেটের বাজার থেকে সরকার বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। 

সম্প্রতি বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষ ঝুঁকছেন নিম্নস্তরের সিগারেটে। আর এই বাজারের প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অবৈধ সিগারেটের দখলে আছে। এসব অবৈধ সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলো সরকার নির্ধারিত দামও মানছে না। সাধারণত ১০ শলাকার এক প্যাকেট নিম্নস্তরের সিগারেটের সরকার নির্ধারিত দাম ৩৫ টাকা। প্রতি শলাকা সিগারেট বিক্রেতারা চার টাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অবৈধ এক প্যাকেট সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম পড়ে গড়ে ১.৫ থেকে ২ টাকা। তাই স্বল্প আয়ের ধূমপায়ীরা এসব নিম্মমানের সিগারেটের প্রতিই ঝুঁকছেন। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে সিগারেটের সহজলভ্যতা সরকারের তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনের প্রধান বাঁধা। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই অবৈধ সিগারেটের কারণে সরকার বিশাল অংকের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। এই অবৈধ সিগারেটের বাজার বন্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

অবৈধ সিগারেট রাজস্ব

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0184 seconds.