• ২১ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:৫৪:০৩
  • ২১ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:৫৪:০৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করে যে সংগঠন

ছবি : বাংলা

রাবি প্রতিনিধি :

‘নীরবতা ভেঙে আওয়াজ তুলি, সুরক্ষিত শৈশব নিশ্চিত করি’ এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পথচলা শুরু। সেই থেকে যৌন হয়রানির বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছে। যৌন নিপীড়ন যখন একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ঠিক সেসময় বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে কথা বলে, তাদের সাহস সঞ্চারে সহায়তা করাই যে সংগঠনের লক্ষ্য সেটি ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ শিক্ষার্থীর ব্যতিক্রমধর্মী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এটি।

সংগঠনটির সভাপতি নওরীন পল্লবী বলেন, ‘আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সেই লক্ষ্যে সবার মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার চেষ্টাও করে যাচ্ছি।’

সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্টে’ যৌন হয়রানির বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত স্টিকার লাগান সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থা কতোটা নারীবান্ধব তা যাচাইয়ের জন্য একটি জরিপ চালানো হয়। রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন, নগরীর ভদ্রা, রেলগেট, বাস টার্মিনালসহ বেশ কয়েকটি স্থানের বাস, সিএনজি, অটো, লেগুনাসহ প্রায় সব পরিবহনে ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’, যৌন হয়রানিকে ‘না বলুন’, আইনি সহায়তার জন্য ১০৯ নম্বরে কল করুন লেখাযুক্ত স্টিকার লাগানো হয়। জনসচেতনতার লক্ষ্যে যাত্রী, চালক, হেলপার, পথচারীদের সঙ্গেও আলোচনা করেন সংগঠনটির কর্মীরা।

শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সংগঠনটি যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। নাজমিন নাহার এক যাত্রী বলেন, আজকাল নারীদের গায়ে হাত দেয়াস বিভিন্ন হয়রানিমূলক কর্মকা- চোখের সামনেই ঘটে থাকে। দুঃখজনক বিষয় হলো, এসব দেখার পরও অন্য পুরুষের প্রতিবাদ না করা। কিন্তু তাদের নিজের বেলায় এমনটা ঘটলে তারা ঠিকই প্রতিবাদ করেন। সংগঠনটির কর্মীদের এমন উদ্যোগ সবার মধ্যেই সচেতনতা সৃষ্টি করবে যে, প্রতিবাদ সব ক্ষেত্রে, সবার ক্ষেত্রে করা দরকার। একজন নারীকে যৌন হয়রানি করার অর্থ পুরো নারী সমাজকে হয়রানি করা এটা তাদের বুঝতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে নিপীড়করাও বিরত থাকবে।

‘পথের সাথী’ বাসের চালক সাইফুল ইসলাম এটিকে শ্রেষ্ঠ উদ্যোগ উল্লেখ করে বলেন, অনেক সময়ই পুরুষ ইচ্ছে করে নারীকে ধাক্কা দেয়, গায়ে হাত দেয়। যা খুব জঘন্য কাজ। শিক্ষার্থীদের এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পুরুষরা নারীর গায়ে হাত দিতে লজ্জা পাবে। সারাদেশে এরকম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’র সভাপতি ইচ্ছা পোষণ করেন, প্রাথমিকভাবে রাজশাহী অঞ্চল ও এ অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার।

শারিরীক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। বিভিন্ন পরিবহনে আমাদের লাগানো এই স্টিকারগুলো সাধারণ যাত্রী, পরিবহন কর্তৃপক্ষ এমনকি যৌন হয়রানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য একটি বার্তা বহন করবে। একজন ভুক্তভোগী যখন দেখবে তার সমস্যার ব্যাপারে অনেকেই আলোচনা করছে এবং সজাগ আছে তখন তিনি নিজেও প্রতিবাদ করতে লজ্জাবোধ করবেন না। সাহসের নিয়ে আওয়াজ তোলার সামর্থ জন্মাবে। পাশাপাশি নিপীড়করা ভীত হবে। এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষও সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’

এর আগে সংগঠনটি রাজশাহীর আটটি স্কুলে শিশুদের যৌন নিপীড়ন বিষয়ে কর্মশালা করেছে। স্কুলগুলোতে যৌন হয়রানি বিষয়ক সচেতনতা তৈরি ও নিপীড়িতদের আইনি সহায়তা দেয়া, কাউন্সেলিং করা, আত্মরক্ষায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা, বাল্যবিবাহ ও ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা তৈরি করেছে সংগঠনটি। শিশু নিপীড়নের হার নির্ণয়ে জরিপ পরিচালনা করে শরীরের ব্যক্তিগত অঙ্গের পরিচিতি ও স্পর্শের পার্থক্য বুঝানো, কীভাবে খারাপ স্পর্শ থেকে নিজেকে রক্ষা করবে শিশুদের সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়ার কাজও করেছে তারা। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছে সংগঠনটি।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0228 seconds.