• ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ২২:৫২:৫৭
  • ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ২২:৫২:৫৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সৌদি-আমিরাতের হস্তক্ষেপ চায় না সুদানের জনগণ

ছবি : সংগৃহীত


ফারহানা করিম :


সুদানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিশরের কোন হস্তক্ষেপ হোক- তা চায় না দেশটির জনগণ। গত সপ্তাহে দীর্ঘ সময় ধরে সুদান শাসন করা একনায়ক ওমর আল বশিরকে এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সামরিক বাহিনী।

কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বশির সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এখনো অব্যাহত রেখেছে বর্তমান সেনা কর্তৃপক্ষ। আর এটিই ভাল চোখে দেখছেন না সুদানের আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে সক্রিয় বিক্ষোভকারীরা।

সামরিক কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার বশিরকে উৎখাত করার পর সুদানে কারফিউ জারি করে। তবে বিক্ষোভকারীরা এই কারফিউ উপেক্ষা করেই রাজধানী খার্তুমে সামরিক বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিশরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের হাতে থাকা একটি ব্যানারে একজন বিক্ষোভকারী লিখেছেন, ‘তোমাদের সমর্থন আমরা চাই না।’

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সুদানের সামরিক কাউন্সিলকে উপসাগরীয় এসব দেশ সমর্থন দিচ্ছে। একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘সুদানে সৌদি, আমিরাত এবং মিশরের কোন হস্তক্ষেপ চাই না।’

প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হামলায় সুদানেরও অংশগ্রহণ রয়েছে। সৌদি আরবের অনুরোধে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সুদানি সেনা মোতায়েন করেন ওমর আল বশির। সেসময় থেকেই সুদানের পররাষ্ট্রনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়। এর আগে সৌদি আরবের এক নম্বর শত্রু ইরানের সঙ্গে সুদানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

২০১৫ সালে শিয়া ইরানের সঙ্গে আকস্মিকভাবে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের পুরনো সম্পর্ক ভেঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে প্রবেশ করেন ওমর আল বশির। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আরব লিগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য সুদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরের অবস্থানও কৌশলগতভাবে সুদানের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে।

এদিকে ওমরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নতুন সেনা শাসক সাবেক সরকারের মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত করলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি অব্যাহত পররাষ্ট্রনীতি বহাল আছে বলে ঘোষণা দেয়।  অবশ্য সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতও এক বিবৃতিতে সুদানের মিলিটারি কাউন্সিলের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করে।

সুদানের জনগণ কিন্তু কোনভাবেই দেশটিতে সামরিক শাসন মেনে নিতে রাজি নয়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তাদের একনায়কতন্ত্রের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। বেশ কয়েকমাস ধরে বিক্ষোভ করে অনেক রক্ত ঝরিয়ে অবশেষে সেই শাসক সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তার পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক শাসন তাদের ঘাড়ে চেপে বসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে এখনো বিক্ষোভ করেই যাচ্ছেন তারা।

মূলত বিক্ষোভকারীদের চাপে পড়েই সেনা অভ্যুত্থানের মূল নায়ক জেনারেল আউয়াদ ইবনে আউফ মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যদিও প্রথমদিকে দুই বছর পর বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছিল সামরিক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রতি নতি স্বীকার করে অবশেষে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য রাজি হয় তারা।

এরই মধ্যে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিশরের মত গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলো যদি মিলিটারি কাউন্সিলের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করে তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিক্ষোভকারীরা তাদের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। সম্প্রতি সুদানের রাজপথে তাই দেখা গেলো। বিক্ষোভকারীরা সুদানের ব্যাপারে নাক না গলানোর জন্য দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

এদিকে সুদানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইয়েমেনে দেশটির র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) নামক আধা সামরিক বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। এই বাহিনীর শতাধিক সৈন্য এবং অফিসার ইয়েমেনে যুদ্ধ করছে।

স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধে সুদানি সেনাদের হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। ফলে এসব সেনাকে ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

অথচ সোমবার মিলিটারি কাউন্সিলের দ্বিতীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগলো সুদানের বার্তা সংস্থাকে জানান, আরব জোটের সঙ্গে সুদানের যে অঙ্গীকার রয়েছে তা অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়া যতদিন পর্যন্ত এই জোট ইয়েমেনে কাংখিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত সুদানের সামরিক বাহিনী সেখানে থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রায় চার মাস ধরে সুদানজুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে ১১ এপ্রিল তাদের সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেয়। ক্ষমতাচ্যুত হন ওমর আল বশির। আনন্দের বন্যায় ভেসে যায় সুদানবাসী। কিন্তু সামরিক কাউন্সিলের ঘোষণার পর তাদের সেই আনন্দ হতাশায় পরিণত হয়।  তাদের এতো কষ্টের অর্জিত বিজয় যেন সামরিক বাহিনী হাইজ্যাক করে না ফেলে সেই আশংকায় এখনো বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন সুদানিরা।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0209 seconds.