• ক্রীড়া ডেস্ক
  • ১৩ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৫২:৩৯
  • ১৩ এপ্রিল ২০১৯ ২১:৫২:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এবার ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার মোহাম্মদ সালাহ

মোহাম্মদ সালাহ। ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপের ফুটবলে বর্ণবিদ্বেষ এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। ক্রমবর্ধমান এই ঘৃণার সাম্প্রতিক শিকার হলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ।  সালাহর ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি ইঙ্গিত করে তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন লন্ডনের ক্লাব চেলসির কয়েকজন ভক্ত।

মিশরীয় ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহকে বিদ্রুপ করে চেলসির সমর্থকদের গাওয়া একটি গান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, চেলসির কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ ভক্ত একটি পানশালায় গলা ছেড়ে সমস্বরে গাইছে, ‘সালাহ একজন বোমাবাজ।’

এসময় পানশালায় থাকা অনেকেই এই ঘটনার প্রতিবাদ না করে চেলসির সমর্থকদের সঙ্গে গলা মিলিয়েছে অথবা অনেকেই হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থেকে এই ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কাজকে প্রশ্রয় দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে স্লাভিয়া প্রাগের বিরুদ্ধে চেলসির খেলা ছিল। ওই ম্যাচের আগেই ভিডিওটি প্রচারিত হয়। ভিডিওটি টুইটারে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রিটিশ গণমাধ্যমের নজরে পড়ে। এরপর এটিকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করে তারা।

ভিডিওটি প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই সকলেই এই ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। চেলসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ওই তিনজন ভক্তকে চিহ্নিত করতে পেরেছে। ইউরোপা লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে তারা।

অবশ্য লিভারপুলের জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ চেলসির ওই ভক্তদের আজীবন ফুটবল মাঠে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি করেছেন।

এদিকে ব্রিটিশ পুলিশও মোহাম্মদ সালাহকে নিয়ে করা ওই ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে।

লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার স্ট্যান কলিমোর এই ঘটনাটিকে ব্রিটেনের ডানপন্থী পরিবেশের প্রত্যক্ষ ফল বলে উল্লেখ করেছেন।

লিভারপুল এবং চেলসি উভয় ক্লাবই এই ভিডিওর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। লিভারপুল তাদের বিবৃতিতে এই ভিডিওকে বিপদজনক এবং বিরক্তিকর বলে জানিয়েছে।

অবশ্য এর আগেও ইসলাম ধর্মাবলম্বী মোহাম্মদ সালাহ তার ধর্ম বিশ্বাসের জন্য হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।  তবে কেবল সালাহই নন ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলে থাকা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলারদেরও প্রতিনিয়তই প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের বিদ্রুপ এবং বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হতে হয়। এমনকি ব্রাজিলের যেসব ফুটবলারের গায়ের রঙ কালো তাদেরও বিভিন্ন বর্ণবিদ্বেষী ঘটনার কবলে পড়তে হয়। এক্ষেত্রে দানি আলভেজের কথা বলা যেতে পারে।

এদিকে গত মার্চ মাসেই ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলা কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী শ্লোগান দেয়া হয়। ইউরোর বাছাই ম্যাচে মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের খেলার সময় ইংলিশ ফুটবলার রাহিম স্টার্লিংকে লক্ষ্য করে মন্টেনেগ্রোর সমর্থকরা বানরের মত শব্দ করতে থাকে।

এপ্রিলের শুরুতে ইতালির সিরি-আ’তে জুভেন্তাস এবং কাগলিয়ারির ম্যাচে জুভেন্তাস ফরোয়ার্ড মইজে কিন বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার হন। অবশ্য নিজে গোল করে এবং ওইসব সমর্থকদের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মইজে ওই বিদ্বেষের সমুচিত জবাবই দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেন, বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার সর্বোত্তম উপায়।

প্রতিটি বর্ণবিদ্বেষী ঘটনার পরেই বিশ্ব ফুটবলের শাসক সংস্থা ফিফা এবং ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষ উয়েফা কি পদক্ষেপ নেয় তা দেখার জন্য সকলেই তাকিয়ে থাকে। কিন্তু কিছু জরিমানা এবং দর্শক ছাড়া ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়া এসব ছাড়া আর কোন বড় শাস্তিই তাদের দিতে দেখা যায় না।

তাই বর্ণবাদবিরোধী অ্যাকটিভিস্টরা চান, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ফিফা এবং উয়েফা যেন কঠোর অবস্থান নেয়।  তাদের নেয়া এই পদক্ষেপ যেন ফুটবল মাঠ থেকে চিরতরে বর্ণবাদ দূর করে দেয়।

বাংলা/এফকে 

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.