• ফিচার ডেস্ক
  • ১৮ মার্চ ২০১৭ ১১:২৭:১৯
  • ১৮ মার্চ ২০১৭ ১১:২৭:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

৭ কারনে ভাঙতে পারে সম্পর্ক, সতর্ক হোন

ছবি: ইন্টারনেট

কয়েকটি বিষয় আপনার সম্পর্ক নষ্ট করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তিলে তিলে গড়া সম্পর্ক আ্পনার নিমিষেই শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই সম্পর্ক চলাকালে বিষয়গুলো সতর্ক থেকে মোকাবেলা করা উচিত। 

১. ব্যক্তিগত বিষয়ে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা
আপনার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে কার সঙ্গে আলোচনা করছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হোন। ব্যক্তিগত তথ্য অন্যদের দেওয়ার আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন। আপনার এ তথ্য কি সত্যিই অন্যকে দেওয়ার উপযুক্ত, একথা চিন্তা করে নিন। সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া কিংবা মতপার্থক্য হতেই পারে। তার কোনো আচার-আচরণে আপনি বিরক্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় আলোচনা করা। তার বিষয়ে আপনি যদি অন্যের কাছে অভিযোগ করেন তাহলে তা বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া রয়েছে আবেগগত বিষয়। আপনি যদি সঙ্গীর বিষয় নিয়ে অন্যের সঙ্গে আলোচনা করেন তাহলে তা তাকে আবেগগতভাবে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আপনার একথা মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক মানুষেরই একটি প্রাইভেসি রয়েছে।

২. ভিন্ন উদ্দেশ্য
কোনো কারণে আপনার হয়ত মনে হলো সে আপনার সঠিক জীবনসঙ্গী নয়, আর আপনি তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চান না। তবে বিষয়টি সরাসরি বলতেও চাইছেন না আপনি। এক্ষেত্রে অনেকেই সরাসরি বিষয়টি না বলে নানা তালবাহানা শুরু করেন। এতে মূল বিষয়টি বুঝতে অপরজনের সমস্যা হয়। তিনি হয়ত আপনার ইঙ্গিত ধরতে নাও পারতে পারেন। পুরো বিষয়টি সেক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর হয়ে দাঁড়ায়। যদিও এ আচরণের মূলে থাকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অনিচ্ছা। 

৩. নেশা গোপন করা
মানুষের বহু ধরনের নেশা থাকে। এসব নেশা গোপন করে সম্পর্কে জড়ালে তা পরবর্তীতে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে। অনেক মানুষই ধূমপান, অ্যালকোহল, ড্রাগ, খাবার, ফোন কিংবা কাজের নেশায় আক্রান্ত। এ ধরনের মানুষদের এসব নেশার কারণে সঙ্গীরা ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যা পরবর্তীতে সম্পর্ক নষ্ট করার দিকেও যেতে পারে। তাই সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে নেশা দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে যে কোনো নেশা নিরাময়ের জন্য চিকিৎসক কিংবা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া যায়। চিকিৎসকরা আপনার নেশা ছাড়াতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।

৪. আবেগগত প্রতারণা
কখনো কখনো আবেগগত প্রতারণা অন্য বহু প্রতারণার তুলনায় মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতেও এ প্রতারণার জুড়ি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ ধরনের প্রতারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের বাইরে যদি আপনার অন্য কারো সঙ্গে আবেগগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাহলে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে সঙ্গী যখন জানতে পারে যে, আপনার শুধু তার সঙ্গেই নয়, আরো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তখন সম্পর্ক ভাঙার ঝুঁকি তৈরি হয়।

৫. আর্থিক প্রতারণা
অনেক ব্যক্তি আছেন যারা তাদের সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার সুবাদে তাদের ব্যাংকের অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করতে চান। অনলাইনে কোনো কেনাকাটায় তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার কিংবা গোপনে তার নামে লোন নেওয়া হতে পারে এর মধ্যে কিছু উদাহরণ। এছাড়া রয়েছে অনুমতি ছাড়াই তার টাকা ব্যবহারের মতো বিষয়। বড় কোনো আর্থিক বিষয়ে লেনদেন যদি উভয়ের সম্মতিতে না করা হয় তাহলে তা উভয়ের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। 

৬. মানসিকভাবে পাশে না থাকা
আপনার সঙ্গীর যে কোনো বিষয়ে আপনি মানসিকভাবে পাশাপাশি থাকবেন, এটাই নিয়ম। কিন্তু আপনি যদি এর ব্যাতিক্রম করেন তাহলে তা সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে কোনো বিপদের মুহূর্তে সঙ্গীর পাশাপাশি থাকা কিংবা অন্য কেউ যদি আপনার সঙ্গীকে মৌখিকভাবে আক্রমণ করে, তাহলে তার পাশে দাঁড়ানো হতে পারে একটি বড় বিষয়। কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হতেই পারে। তাতে জনসম্মুখে কোনো বিষয় নিয়ে তর্কে না জড়িয়ে এসব বিষয় অন্তরালে আলাপ করে নেওয়াই ভালো।

৭. আত্মকেন্দ্রীকতা
শুধু নিজের কথা চিন্তা করা হলে এবং সঙ্গীর কথা চিন্তা করা বাদ দিলে এ ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। আপনার সঙ্গী হয়ত আপনাকে ছাড়া কিছু চিন্তাই করতে পারে না, অন্যদিকে আপনার তার কথা মনেই থাকে না, এমন পরিস্থিতিতে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাই যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে সঙ্গীর কথা চিন্তা করুন। এ কাজটি করলে তার প্রভাব আপনার সঙ্গীর ওপর কিভাবে পড়বে তা ভেবে দেখুন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সম্পর্ক

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0206 seconds.