• বিদেশ ডেস্ক
  • ২১ মার্চ ২০১৯ ২১:৫৮:৫৫
  • ২১ মার্চ ২০১৯ ২২:১৩:৫৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যর্থ, স্বীকার করলো ফেসবুক

ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ছবি : সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ভিডিওটি যে ‘নীতি পরিপন্থী’ সেটি সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। ফলে ভিডিওটি সম্প্রচারের সাথে সাথেই ব্লক করে দেয়া সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ইন্টেগ্রিটি গাই রোসেন এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন। 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের নূর মসজিদে ২৮ বছর বয়সি সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্ট যখন নিরীহ মুসলিম নামাযীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি করছিলো তখন সে এই ঘটনাটি ফেসবুকের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছিলো। তার ভক্ত এবং অনুসারীরা যেহেতু এই হামলার খবর আগে থেকেই জানতো তারা নির্মম এই হত্যাযজ্ঞ সরাসরি উপভোগও করছিলো।   

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই ভিডিও সরাসরি সম্প্রচারের সময়েই কেন ব্লক করে দিলো না তা নিয়ে অনেকেই ফেসবুককে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন। ভয়াবহ এই ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ত্রুটি স্বীকার করে নিয়ে এটিকে আরো উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

গাই রোসেন বলেন, ‘ভয়ংকর ওই ভিডিও সনাক্ত করার জন্য ফেসবুকের এআই সিস্টেম ততটা নিখুঁত ছিল না।  তবে ফেসবুক লাইভে ‘টাইম ডিলে’ যোগ করা হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। উল্লেখ্য, টিভি স্টেশনগুলো সরাসরি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে যাতে ভুল বা অগ্রহণযোগ্য কোনো বিষয় সম্প্রচারিত না হয়।

বিবৃতিতে রোসেন জানান, প্রতিদিন লাখ লাখ লাইভ ভিডিও হচ্ছে ফেসবুকে। ফলে ‘টাইম ডিলে’ পদ্ধতিতে এই সমস্যার সমাধান হবে না। এর চেয়ে ব্যবহারকারীর রিপোর্টের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ফেসবুক লাইভে টাইম ডিলে যোগ করা হলে ভিডিও ধীর গতির হয়ে যাবে ফলে ব্যবহারকারী দ্রুত এই ব্যাপারে রিপোর্ট করতে অসুবিধার সম্মুখীন হবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ফেসবুক লাইভে এধরনের ভয়াবহ ভিডিও এআই যাতে দ্রুত সনাক্ত করতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে হামলার সময় বন্দুকধারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট মাথায় ক্যামেরা বেঁধে তার এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ১৭ মিনিট ধরে ফেসবুকে সরাসরি প্রচার করে। পরবর্তীতে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে মানুষ হত্যার ভয়াবহ এই ভিডিওর লাখ লাখ কপি ছড়িয়ে পড়ে। ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৫০ জন মুসল্লি নিহত হন এবং অনেকেই আহত হন।  

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রযুক্তিভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠান তাদের প্লাটফর্মে ব্যবহৃত আপত্তিকর ভিডিওর ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে কি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এই ব্যাপারে ২৭ মার্চ মার্কিন কংগ্রেসের কাছে তাদের অবস্থান বর্ণনা করার জন্য বলা হয়েছে।  

বাংলা/এফকে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0221 seconds.