• ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২০:২৬:১৭
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২১:১০:২৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বুননশিল্পী ফারুক এবং পাইলট অভিনন্দন: ভারতীয় মানবাধিকার চেতনার দ্বিমুখীতা

ভারতীয় রাষ্ট্রীয় রাইফেলের সৈনিকরা ফারুককে এভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।


আলতাফ পারভেজ


ভারতের আটককৃত পাইলট অভিনন্দনকে পাকিস্তান শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিনন্দনের মুক্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভারতীয় নাগরিক সমাজ-রাজনীতিবিদ-বুদ্ধিজীবীরা গত ২৪ ঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুল আহ্বান জানাচ্ছিলেন।

এই আকুতিতে কোনো খাদ ছিল না। কিন্তু তারা যখন এই আকুতিকে ন্যায্যতা দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সনদের দোহাই দিচ্ছিলেন, তখনই মনে পড়লো কাশ্মীরী শাল বুননশিল্পী ফারুক আহমেদ ধরের কথা।

২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল ফারুক আহমেদকে কাশ্মীরের বুদগাঁ জেলার সীতাহরণ গ্রাম থেকে আটক করা হয়। ফারুক তখন ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। আটকের পর তাকে একটা সামরিক জিপের সামনে বেঁধে ওইদিন ভারতীয় রাষ্ট্রীয় রাইফেলের সৈনিকরা স্থানীয় এলাকায় অভিযান চালায়। ফারুককে অভিযানকালে ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিলো।

পাকিস্তানে আটক ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে হেফাজতে থাকা অবস্থায় চায়ে চুমুক দিতে দিতে কথা বলতে দেখা যায়। ছবি : ভিডিও থেকে

সামরিক কাজে বেসামরিক মানুষকে এভাবে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদগুলোর সরাসরি লংঘন ফারুকের এই হয়রানির ভিডিও ভারতের সর্বত্র প্রচারিত হয়। কিন্তু বিস্ময়কর হলো, যে মেজর এই অপরাধমূলক কাজটি করেছিলেন সেই মেজর লিতুল গগইকে সেনাবাহিনী বিশেষ পদক দিয়ে সম্মানিত করে

সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাউত সরাসরি এই সম্মাননা দেন গগইকে। গগইয়ের এই কাজকে ‘স্মার্ট এপ্রোচ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহাতজি। বেসামরিক মানুষকে মানবঢাল করা যে অপরাধ সেটা ভারতের সেনাপ্রধান ও অ্যাটর্নির না জানার কোনো কারণ নেই।

অথচ পাইলট অভিনন্দনের মতোই ফারুক আহমেদ ধরও ভারতেরই নাগরিক। অভিনন্দন আরেক দেশের জনগণের ওপর বোমাবর্ষণ করতে যেয়ে আটক হলেও সেই দেশ তাকে আটকাবস্থায় সম্মানের সঙ্গেই রেখেছে। আর শাল বুননশিল্পী ফারুক ভোট দিতে যাচ্ছিলেন নিজ দেশে। কিন্তু তাঁকে অসম্মানিত করাকে ভারত প্রশংসিত করলো। ফারুক ও অভিনন্দনের মধ্যে পার্থক্য কী? তাদের ধর্ম? সেক্যুলারিজমের দাবিদার ভারতীয়রাই প্রশ্নটার উত্তর দিক

তবে মনে আরও প্রশ্ন জাগছে-- এইরূপ দ্বিমুখিতা নিয়ে ভারত কি দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব দিতে নৈতিকভাবে সক্ষম?

লেখক : গবেষক

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0181 seconds.