• ২৯ মে ২০১৮ ১৭:৩১:০৫
  • ২৯ মে ২০১৮ ১৭:৩১:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

উন্নয়নের কালে একটি ‘দরকষাকষি’র গল্প

ছবি : সংগৃহীত

বোঝাগুলো অনেক ভারি। কিন্তু ক্লান্তির প্রাপ্তি সামান্যই।

‘উন্নত’ বাংলাদেশ যখন মর্ত্য ছাড়িয়ে মহাকাশে ধাবমান ঠিক তখন চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাগান মালিকদের দরকষাকষি হচ্ছে দৈনিক শ্রমিক মজুরি ৮৫ টাকা থেকে কত বাড়ানো উচিত-- সেটা নিয়ে।
২০১৬ থেকে এই খাতে শ্রমিকরা দিনে ৮৫টা মজুরি পান। তাও সবাই নন। বিশেষ করে যারা ‘স্থায়ী শ্রমিক’ এবং যারা ‘এ-ক্যাটাগরি’র বাগানে কাজ করে তারাই ঐ মজুরি পাওয়ার উপযোগী। এবং সেটাও ২৩ কেজি পাত্তি তোলার পরই কেবল পেতে পারেন।

‘অস্থায়ী শ্রমিক’ এবং বি ও সি ক্যাটাগরির বাগানগুলোর শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি আরও কম। 
বলা বাহুল্য, বাগানগুলোতে বছরের পর বছর কাজ করেও ‘স্থায়ী’ হওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণটি বোধগম্য।
উপরোক্ত মজুরি থেকে আবার কাটা যায় বিদ্যুত বিল, পূজার খরচ, শ্রমিক ইউনিয়নের চাঁদা, প্রভিডেন্ট ফান্ডের চাঁদা ইত্যাদি। নগদ অর্থের সঙ্গে সামান্য কিছু রেশনও মিলে শ্রমিকদের--যদিও তা খুবই সামান্য (সপ্তাহে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম!!)

বাংলাদেশে যখন গ্রামের কৃষি শ্রমিকদের মজুরিও ৪-৫ শত টাকা ঠিক সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পখাতে এক শত টাকা কম মজুরির বিষয় অবিশ্বাস্য হলেও চা শিল্পে এটাই বাস্তবতা।

এই মুহূর্তে চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা দৈনিক মজুরি চাইছেন ২৩০ টাকা। আর মালিকরা নতুন করে দিতে চাইছেন এক শ’ টাকার মতো। হয়তো এইরূপ কাছাকাছি কোন অংকে আগামী দুই-তিন বছরের জন্য নির্ধারিত হয়ে যাবে কয়েক লাখ চা জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকার নিয়তি। 

এবং .....কোনদিনই এই নিয়তি বদলের কোন উদ্যোগ থাকবে না-- দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সংসদ, পার্টি-দলিল কিংবা ওয়াজ মাহফিলগুলোতে। কারণ ‘বিদ্যমান আইন’ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিক মজুরি নির্ধারণের এটাই হলো প্রক্রিয়া এবং ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশে ‘আইনের শাসন’ই কাম্য!

লেখক : গবেষক ও সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

চা শ্রমিক উন্নয়ন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0228 seconds.