• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৬ মার্চ ২০১৮ ১৫:১৯:৫৪
  • ২৬ মার্চ ২০১৮ ১৫:২১:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘অভিজ্ঞদের অভিজ্ঞতা নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন করতে চাই’

লুনা শামসুদ্দোহা। ছবি: সংগৃহীত

উদ্যোক্তা হিসেবেই জীবনের যাত্রা শুরু তার। তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে কাজ করছেন দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে। প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির কারণে ২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টরস অ্যান্ড ইনোভেটরস নেটওয়ার্ক (গুইন) সম্মাননা পান সফটওয়্যার শিল্পের এ নারী উদ্যোক্তা লুনা শামসুদ্দোহা।

তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী লুনা এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত আরেক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও উদ্যোক্তা লুনা দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজিরও প্রেসিডেন্ট এর দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বাংলাদেশ বিজনেস ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা, সফটওয়্যার উদ্যোক্তা এবং সুইজারল্যান্ডের গ্লোবাল থট লিডার অন ইনক্লুসিভ গ্রোথের সদস্য। ২০০৫ সালে তিনি সুইস ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন (সিসমা) প্রাপ্ত হন।

আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচনে ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বাংলা ডট রিপোর্ট এর সঙ্গে বেসিস নির্বাচনের হালচাল এবং প্রযুক্তি খাতের নানা দিক নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

বাংলা : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীর উন্নয়নের পেছনে কী বাধা রয়েছে?

লুনা শামসুদ্দোহা : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার দুই যুগেরও বেশি। দেশের বাইরেও কাজ করেছি। আমার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের পুরুষরা নারীদের অনেক সম্মান করে। সরকারও প্রযুক্তিবান্ধব। সরকার সারাদেশের নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে আসার জন্য নানান ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেখানে সরকার সুযোগ দিচ্ছে, পুরুষরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি নারীদের সম্মান করছে- এমন সুন্দর পরিবেশে নারীরাই নিজেদেরকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে না। সমাজ কিন্তু কাজ করার জায়গা করে দিয়েছে। সরকারও নানাভাবে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে। নানান রকম বাধা আসবেই। তারপরও সেগুলোকে নিজের মনের শক্তি দিয়ে জয় করতে হবে। নারীকে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে যে আমি প্রযুক্তিতে কাজ করবো। এটা ভেতর থেকে আসতে হবে।

বাংলা: তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে করণীয় কী?

লুনা শামসুদ্দোহা : আশার কথা হলো- তথ্যপ্রযুক্তিতে দিনদিন নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে আরও বাড়াতে হবে নারীদের বলতে চাই, আপনারা অনেক আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিমতী, আপনাদের অনেক টেলেন্ট রয়েছে। এগুলোকে কাজে লাগান। অনেকের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার দক্ষতা থাকলেও নানা কারণে এগিয়ে আসেন না। ভয় পান। আমি বলি আপনারা ভয়কে জয় করুন। আমরা যদি কোনো কাজে ঝুঁকি না নেই তাহলে কিছুই পাবো না। আমাদের নারীদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। অমি বলতে চাই, নারী জানি তুমি পারবে।

বাংলা: বেসিস নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন?

লুনা শামসুদ্দোহা : ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে নানান ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে বেসিস আজ একটা স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছে। সময়ের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে বেসিসের নির্বাহী কমিটি এই নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে। তাই উন্নয়নের সুযোগ এবং সম্ভাবনার ব্যাপকতায় এবারের বেসিস নির্বাচনে সকল সদস্যকে প্রচণ্ড আগ্রহী করে তুলেছে। সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্যদের মধ্যেও যাচাইবাচাই করে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করছি। এটা অবশ্যই আশার দিক।

বাংলা: নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন কেন?

লুনা শামসুদ্দোহা : বেসিস এখন তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ব্যবসায়িদের জন্য সবচেয়ে বড় সংগঠন। এখানে কাজ করার অনেক জায়গা রয়েছে। একেক জন একেক অ্যাঙ্গেল থেকে কাজ করে আসছেন। আমাদেরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের প্যানেলে তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করার বেশ অভিজ্ঞ প্রার্থী রয়েছেন। নবীন-প্রবীণ মিলে সবারই সফটওয়্যার সেক্টরে ১০-২৬ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অভিজ্ঞদের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সরকারের পলিসির সঙ্গে এক হয়ে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরের উন্নয়ন করতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

বাংলা: নির্বাচিত হলে বেসিসকে কোন স্তরে দেখতে চান?

লুনা শামসুদ্দোহা : বেসিস ইতোমধ্যেই একটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এটাকে একটা টেকসই জায়গায় দাঁড় করাতে ও গ্লোবাল লেভেলে নিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই বেসিস যেন যথাযথ সেক্রেটারিয়েট হিসেবে গড়ে উঠে। এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করবো। আর বেসিস মেম্বারদের মধ্যে যারা বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করছেন আর একটু সহায়তা পেয়ে হয়তো আরও ভালো কোনো কাজ পেতে পারেন। এমন মেম্বারদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেব। আমাদের কাছে মেম্বারদের চাওয়া-পাওয়া, যে কোনো সমস্যা আসলে সবার আগে গুরুত্ব দিয়ে বেসিসকে সদস্যবন্ধব করার চেষ্টা করবো।

বাংলা: নির্বাচিত হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন? 

লুনা শামসুদ্দোহা : বেসিসে একশ মেম্বার রয়েছেন। অনেকে বিভিন্ন সময় নানা সমস্যায় পড়েন। হয়তো তাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, তারা জানেন না কী করবেন তারা। তখন এসব কাজে সহায়তা করবে বেসিস। যারা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবসা করবে তারা যে এমন বিশ্বাস করতে পারেন যে, বেসিসে গেলেই আমি এ সমস্যাটার সমাধান পাব, বেসিসে গেলেই আমি সহযোগিতা পাব। প্রত্যেকটা সদস্যের মনে এ আস্থাটা তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চাই। আমি যদি সব মেম্বারকে খুশি রাখি তাহলে প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চলবে। সদস্যরা ভালো থাকলেই বেসিস ভালো থাকবে। সবাই ভালো কিছু করবে। আমি বেসিস সদস্যদের জন্য কাজ করতে চাই, তাদের যোগ্য করে তৈরি করতে চাই।

বাংলা/এসি/আরএইচ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0195 seconds.