• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২১ মার্চ ২০১৮ ১৮:৪৪:৫৪
  • ২১ মার্চ ২০১৮ ১৮:৪৮:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

‘মার্কেট রিসার্চ উইং তৈরি করব’

ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান। ছবি: ইন্টারনেট

ডাক নাম রাসেল। পুরো নাম, ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান। দেশের সফটওয়্যার খাতে যাকে চঞ্চল তরুণ আইটি উদ্যোক্তা হিসেবে অনেকেই চেনেন। তবে সফলতম উদ্যোক্তার খাতায় নাম লেখাতে তাকে পোড়াতে হয়েছে অনেক কাঠ-কয়লা। তার মতে ঠিক সময়ে সঠিক নির্দেশনা পেলে তিনি পৌঁছে যেতেন আরও অনেক দূর।

সফল এই উদ্যোক্তা বর্তমানে ডিভাইন আইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের আইসিটি খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনি। এবারের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮–২০২০ নির্বাচনে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা'র ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্যানেলে অংশ নিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে তার পরিকল্পনা ও দেশের সফটওয়্যার খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা হয় বাংলা ডট রিপোর্ট’র সাথে।

বাংলা: বেসিস নির্বাচন নিয়ে আপনার অভিমত কী?

ইকবাল আহমেদ: এবারের নির্বাচন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং সদস্যদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। এ নির্বাচনের এটি খুবই ইতিবাচক দিক।

বাংলা: নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ কী?

ইকবাল আহমেদ: নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে নিজের তাগিদের পাশাপাশি বেসিসের ব্যবসায়িক সহকর্মীদের চাহিদাটাই মূখ্য ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কোর সফটওয়্যার উৎপাদন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যে ধরণের সমস্যা সম্মুখীন হয় এবং বেসিস সমাধান ও চাহিদা বোঝার মতো একজন পরিচালকের যে অভাব তা পূরণে আমি ভূমিকা রাখতে পারব বলে আমার সহকর্মীরা মনে করেন। আমি নিজেও মনে করি আমি সে ঘাটতি পূরণে কাজ করতে পারব।

বাংলা: নিজের কাজ করার ক্ষেত্রগুলো সর্ম্পকে বলুন?

ইকবাল আহমেদ: আমার অগ্রাধিকার থাকবে তিনটি বিষয়ে।

(ক) সফটওয়্যার শিল্পে ক্লায়েন্টের ক্রয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করব। একটু যদি বিস্তারিত বলি, ক্রয় সচেতনতার অভাবে ক্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বার বার ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের উপর বিশ্বস্ততা হারাচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, দেশের বেশির ভাগ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগগত সচেতনতা নেই। এছাড়াও প্ৰি-সেলস খরচ বাংলাদেশে সবচাইতে বেশি এবং সফলতার মাত্রা সে তুলনায় কম। বেসিসের নির্বাহী কমিটিতে কাজ করার সুযোগ পেলে এই সচেতনতা তৈরিতে আমি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারব বলে মনে করি ।

(খ) বেসিস মার্কেট রিসার্চ উইং তৈরি করব। এটার ব্যাখ্যা হলো- প্রত্যেক ধরনের ব্যবসা করার জন্য সঠিক তথ্য ও উপাত্ত প্রয়োজন। কোথায় কি বাজার আছে, কোথায় গেলে ভালো করবে, কি সফটওয়্যার বানাবে, কোথায় কি পরিমান দেশীয় সফটওয়্যারের বাজার আছে, কোথায় বিদেশী সফটওয়্যার বেশি এবং কেনো, কি পরিমান প্রতিষ্ঠান আগামী কয়েক বছরে কি কি পণ্য কিনতে পারে- এ ধরণের প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সফটওয়্যার ব্যবসার জন্য খুব একটা জরিপ বেসিসের কাছে নেই যেখান থেকে সদস্য কোম্পানি তথ্য সহযোগিতা নিতে পারে। তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য, যেটা ছোট থেকে বড় যে কোনো প্রতিষ্ঠান ও যারা নতুন আসতে চায়, সবার জন্য সবসময়ই জরুরি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটা করা কখনোই সম্ভব নয়। ফলে নির্বাচনে জয়ী হলে একটি রিসার্চ উইং তৈরি করা আমার অগ্রাধিকারে থাকবে।

(গ) স্টার্টআপগুলোকে সহযোগিতা করতে চাই। কেননা আমাদের দেশের স্টার্টআপগুলো অপরিকল্পিত ভাবে ব্যবসা করতে আসে, যার ফলে এই সব প্রতিষ্ঠান ক্ষণস্থায়ী হয়, যা দেশীয় সফটওয়্যার শিল্পের জন্য ক্ষতিকর। একটি ব্যক্তিগত ঘটনা শেয়ার করি। আমার প্রতিষ্ঠান প্রথম পাচঁ বছরে যতখানি উচ্চতায় পৌঁছেছিলো সেটি সঠিক দিক-নির্দেশনা পেলে এক বছরে পৌঁছানো সম্ভব ছিল। সঠিক নির্দেশনা না পাওয়ার কারণ ছিল তখন বেসিস অপরিচিত ছিল এবং বেসিসের স্টার্টআপ নিয়ে কাজের পরিধি কম ছিল। এখনও সেটা কম। ফলে আমি যদি নির্বাচিত হই স্টার্টআপ সদস্যদের সহযোগিতায় বেসিসের নেয়া উদ্যোগ আরও বাড়ানোর ব্যবস্থা করবো।

বাংলা: নতুন কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী?

ইকবাল আহমেদ: প্রথমত, বেসিস সেক্রেটারিয়েটের কাজের পরিধি বৃদ্ধিতে জটিলতা দেখা যেতে পারে, কারণ বর্তমানে চলমান কাজের পাশাপাশি নতুন কাজের জন্য অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। সেটা পূরণে দীর্ঘসূত্রতা একটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বেসিসের জন্য পূনরায় সিইও নিয়োগ ও সেখানে যোগ্য ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা পূরণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তৃতীয়ত, একক প্যানেল নির্বাচিত হলে বেসিস ও তার সদস্যদের স্বার্থ রক্ষার মানসিকতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও মিশ্র প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে নির্বাচিত পরিচালকদের সমমনা হয়ে একসঙ্গে দেশের সফটওয়্যার শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলা: দুই বছর সময় কি যথেষ্ট?

ইকবাল আহমেদ: স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য দুই বছর ভালো সময়। যদিও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য এর চাইতে অনেক বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়। সেটা মেয়াদের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করে ভালো কাজের ধারাবাহিকতা নতুন পরিচালকদের ধরে রাখতে হবে। এছাড়াও দক্ষ সচিবালয় গঠন করতে হবে বলে আমি মনে করি।

বাংলা/এসি/আরএইচ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মার্কেট রিসার্চ উইং

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0223 seconds.