• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ ২১:৩১:৪৬
  • ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ ২২:১৮:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইলে সান্ত্বনা পাওয়া যায় কিন্তু শান্তি পাওয়া যায় না’

গোলাম রাব্বানী। ছবি: বাংলা

জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। জাগতিক নিয়ম জীবনকে থেমে থাকতে দেয় না। মানুষ ছুটে চলে। কেউ ছুটে কিছু পাবার নেশায়, কেউবা জীবন থেকে নেওয়া গল্পের বাস্তবতা তুলে ধরে অন্যকে কিছু দেবার আশায়। তবে স্রষ্টার সেরা জীবের পাবার নেশাটাই বেশি দেখা যায়। সেখানে ব্যতীক্রম থেকে দেশকে ভালবেসে দেশের মানুষকে পরম আত্মীয় ভেবে নিজেকে উজাড় করে বিলিয়ে দেয়া মানুষগুলো সমাজে খুবই কম থাকলেও একেবারেই যে নেই তা নয়। তাও যদি হয় তরুণ প্রতিভাবান আগামী জাতির ভবিষ্যৎ তরুণ কোন নক্ষত্র। যাদের জন্ম হয় শুধুমাত্র অন্যদের কাছে উদাহরণ হয়ে মনের চিলেকোঠায় বসবাসের জন্যই।

তেমনই একজন তরুণ লেখক এবং প্রতিভাবান ক্যামেরার পেছনে থাকা উজ্জ্বল নক্ষত্র গোলাম রাব্বানী। ব্যস্ততার ভিড়ে তার সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে বাংলা রিপোর্টের আজকের আয়োজন।

বাংলা: কেমন আছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ। অনেক ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

বাংলা: বেশ ভালো আছি। রাত পোহালেই বইমেলা। বইমেলার প্রস্তুতি কেমন চলছে?
- বইমেলা যে কোন লেখকের জন্য স্বপ্নের সময়। সকল লেখকই এই মাসটির জন্য মুখিয়ে থাকেন। বইমেলা চলাকালে বিকেলে তেমন কোন জরুরি কাজ না থাকলে মেলাতেই থাকার চেষ্টা করি। তবে এবছর এখন পর্যন্ত বইমেলা নিয়ে তেমন কোন প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই পাচ্ছি না।

বাংলা: কি নিয়ে এত ব্যস্ততা?
- আমাকে অনেক কিছুই ম্যানেজ করতে হয়। এখন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শেষ বিকেলের মেঘ’ নিয়ে খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। প্রোডিউসার ম্যানেজ করা থেকে শুরু করা, লোকেশন দেখা, আর্টিস্ট সিলেক্ট করা, তাদেরকে স্ক্রিপ্ট বুঝিয়ে দেওয়া, গানের ব্যাপারে মিউজিক ডিরেক্টরের সাথে বসা আরও কত কি। একা একা এসব করতে গিয়ে রীতিমত হাঁপিয়ে উঠছি। এর আগেও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মানুষ’ নির্মাণ করেছি। কিন্তু তখন এতটা বেগ পোহাতে হয় নি।

বাংলা: আপনার নির্মিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মানুষ’ ইতোমধ্যেই বেশ সাড়া ফেলেছে। সেখানে যাদেরকে কাস্ট করেছেন, সকলেই ছিল তরুণ। প্রথম কাজে এক ঝাঁক তরুণ নিয়েও এত দর্শকপ্রিয়তা পাবার পেছনে রহস্য কি?
- একঝাঁক তরুণ নিয়ে কাজ করলে সেটা ভালো হবে না, এমন কথা তো পৃথিবীর কোন ডিকশনারিতে নেই। তাছাড়া, সবকিছু বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। আপনি যেভাবে বিশ্বাস করবেন, আপনার ফল সেরকমই হবে। ‘নির্মাতা হিসেবে আমিও তো নতুন ছিলাম। তখন কেউ যদি বলতো, সেটা আমার প্রথম কাজ। তেমন একটা ভালো হবে না। যার ফলে কেউ আমার সাথে কাজ করবে না। তাহলে বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত?’ 

আমি একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। তা হল, পৃথিবীতে সবাই নিজের জীবনে অভিনয় করে চলছে। আমি, আপনি, সে, আমরা সবাই। একটু ভেবে দেখুন, আমরা কি নিজের জীবনে অভিনয় করছি না? করছি তো! তার মানে আমরা সবাই এক্টর। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা হল ক্যামেরাতে। যখনই কাউকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়, তখন আর তার মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। এই জায়গাটা একটু কঠিন। নির্মাতা হিসেবে আপনার কাজ হচ্ছে যাদেরকে কাস্টিং এ রাখবেন, তাদের বিশ্বাস করানো যে তারা পারবে। তাদের যদি বিশ্বাস করাতে পারেন, তাহলে সত্যি সত্যিই তারা পারবে। আমি সেই জিনিসটি করতে পেরেছি, তাই এক ঝাঁক তরুণ দিয়ে বেস্ট আউটপুট বের করতে পেরেছি। সেজন্য আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া।

বাংলা: আপনার দ্বিতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শেষ বিকেলের মেঘ’ এর গল্প নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
- দুঃখিত। এখনই ‘শেষ বিকেলের মেঘের’ গল্প নিয়ে কিছু বলা যাবে না। গল্প বললে মানুষ আর দেখে মজা পাবে না। তবে এতটুকু বলতে পারি, এটা নব্বই দশকের চিরচেনা গল্প। যা আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে রয়েছে। ‘শেষ বিকেলের মেঘ’ ছুঁয়ে যাওয়ার অনুভূতির গল্প। আর দিনশেষে দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার মত গল্প।

বাংলা: শুনলাম ‘শেষ বিকেলের মেঘে’ ডাঃ এজাজুল ইসলাম অভিনয় করেছেন। এরকম একজন অভিনেতা আপনার সেটে অভিনয় করলেন। বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
- ডাঃ এজাজুল ইসলাম স্যারের মত এত বড় মানুষ আমার সেটে অভিনয় করেছেন ভাবলেই আমার খুব ভালো লাগে এবং আমি অনেক আনন্দিত। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তবেই এটাও সত্যি, কাজটি নিয়ে আমি অনেক চ্যালেঞ্জ অনুভব করছি। সেদিন যখন স্যারের সাথে কথা বলছিলাম, তখন তিনি হুমায়ুন আহমেদ স্যারের সাথে নানান ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলেন। আমি শুনে রীতিমত অবাক হচ্ছিলাম। তবে আমি আশাবাদী। দেখা যাক, আল্লাহ আমার ভাগ্যে কি রেখেছেন।

বাংলা: দর্শক কবে নাগাদ ‘শেষ বিকেলের মেঘ’ দেখতে পাবে?
এখনই কিছু বলতে পারছি না। সবেমাত্র ঢাকাতে শুট হল। ঢাকার অদূরে অজপাড়া গাঁয়ে এখনও দুইদিনের শুট বাকি রয়েছে। যা সঠিকভাবে তুলে আনা অনেকটাই কঠিন। শুটিং শেষ হলে অনেক কাজ রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, ‘শেষ বিকেলের মেঘের’ জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি গান তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে। সব গুছিয়ে আনতে ভালোই দেরি হবে মনে হচ্ছে।

বাংলা: লেখালেখির পাশাপাশি আপনি ফিল্ম মেকিং করছেন। লেখক এবং নির্মাতা এই দুইটির মধ্যে কোন পরিচয়টিকে আপনি এগিয়ে রাখবেন।
- আমি নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ। আর এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি চাই জীবনের সবটা সময় জুড়ে আমার শরীরে লেগে থাকুক কাঁদা মাটির গন্ধ। যে মাটি আমায় এদেশের কথা ভাবতে শিখাবে, এদেশের সাধারণ মানুষের জন্য লিখতে অনুপ্রেরণা জোগাবে, এদেশের প্রয়োজনে ফিল্ম বানাতে উদ্বুদ্ধ করবে।

বাংলা: আপনি সাধারণত কি ধরণের লেখা লিখতে পছন্দ করেন, আর কাদের জন্য লিখেন?
- খুব ছোট কিন্তু অনেক কঠিন প্রশ্ন করেছেন। প্রথম কথা হচ্ছে, আমি জীবন লিখতে পছন্দ করি। জীবনের নিয়তি নির্ণয় করতে পছন্দ করি। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমি মনে করি লেখালেখির মাধ্যমে যেকোনো মানুষের অনুভূতির সবটা ছুঁয়ে দেওয়া যায়। নিমিষেই আঁচড় কাটা যায় তার গহীনে লুকিয়ে থাকা অনুভূতির নরম শরীরে। আর তৃতীয় কথা হচ্ছে, ত্রিভুবনের অনুভূতিপ্রবণ প্রতিটি মানুষের জন্য লিখি।

বাংলা: এবারের বইমেলায় প্রকাশিত বই সহ আপনার সর্বমোট বইয়ের সংখ্যা তিন। এই তিনটি বইয়ের মধ্যে কোন বইটি আপনার সবচেয়ে প্রিয় কিংবা কোনটিকে আপনি ভিন্নভাবে দেখেন?
- দেখুন, বই যেকোনো লেখকের কাছে সন্তানের মত। একজন বাবার কাছে যেমনিভাবে তার সকল সন্তান সমান, তেমনিভাবে একজন লেখকের কাছে তার সকল বই সমান। তাছাড়া, আমার প্রকাশিত তিনটি বই তিন ধরনের। যার ফলে তিনটি বইয়ের গুরুত্বই আমার কাছে সমান। যেমন ধরেন, আমার প্রথম বই ‘স্বপ্নের চিলেকোঠা’ হল অনুপ্রেরণামূলক বই। হতাশায় ডুবে থাকা মানুষগুলোর কাছে এই বইটি মশালের মত। বইটি যে কোন মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমার দ্বিতীয় বই ‘আর্তনাদ’ এমন একটি উপন্যাস যেখানে ফুটে উঠেছে সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসার কথা। মমত্ববোধের কথা। এই সমাজের নোংরা রাজনীতির কথা। নিয়তি কতটা নির্মম এবং রহস্যজনক হতে পারে তা এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রথম উপন্যাস হিসেবে বইটি আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। আর তৃতীয় বই ‘হৃদকথন’ নিয়ে কি বলবো? বইমেলা তো এখনও শুরু হয় নি।

বাংলা: তারপরেও ‘হৃদকথন’ বইটি নিয়ে যদি কিছু বলতেন।
- সবকিছুকে ছাপিয়ে ‘হৃদকথন’ হল শুদ্ধতম ভালোবাসার গল্প। ছুঁয়ে যাওয়া অনুভূতির আখ্যান। এই কমার্শিয়াল ইরাতে আমরা যারা প্রতারিত হয়ে ভালোবাসার গুষ্ঠি উদ্ধার করি কিংবা জানিই না আসলে ভালোবাসার মানে কি? আমাদের অনেকেরই ধারণা পর্যন্ত নেই সত্যিকারের ভালোবাসা কতটা বেশি সুন্দর হতে পারে। ‘হৃদকথন’ তেমনই সুন্দর এক ভালোবাসার গল্প। পাঠকদের সুবিধার্থে ‘হৃদকথন’ বইয়ের ভূমিকার কিছু অংশ হুবহু তুলে ধরা হল।

“এই পৃথিবীতে সবচেয়ে পবিত্র শব্দ হল ‘মা’। আর সবচেয়ে সুন্দর শব্দটি হল ‘ভালোবাসা’। ভালোবাসার মত এমন সুন্দর অনুভূতি ত্রিভুবনে আর একটিও নেই। আচ্ছা ভালোবাসা মানে কি? কেবলই দিনের পর দিন একসাথে থাকা? নিয়ম করে একজন অপরজনকে ছুঁয়ে দেওয়া? কিংবা শারীরিক সম্পর্ক? এর বাহিরে কিছু নেই?

একটা সময় তো মানুষ বৃদ্ধ হয়ে যায়। তখন তো একজন অপরজনের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে পারে না। তখনও একজনের অভাব অপরজনকে ভাবিয়ে তোলে কেন? কিংবা একজনের দুঃখে অপরজন লুকিয়ে চোখের পানি ফেলে কেন? সেটাও কি কেবলই মায়া? কেবলই মুগ্ধতা? এর বেশি কিছুই নয়? তাহলে ভালোবাসা কাকে বলে?

আসলে, ভালোবাসা ভীষণ অদ্ভুত। প্রবল রহস্যময়। অনেকে খুব কাছে থেকেও সাথে থাকতে পারে না। আবার কেউ কেউ কাছে না থেকেও সাথে থেকে যায়। অনেকে মুখ ফুটে অনেক কথা বলেও কিছুই প্রকাশ করতে পারে না। আবার কেউ কেউ চোখের ইশারায় অনেক কথাই বলে দিয়ে যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, একই ছাদের নীচে থেকে পাশাপাশি বালিশে শুয়েও কেউ কাউকে ছুঁয়ে দিতে পারে না। কিন্তু শত সহস্র মাইল দূরে থেকেও এখন অপরজনকে খুব গভীর করে ছুঁয়ে দিয়ে যায়। ভালোবাসা এমনই বৈচিত্র্যময়!”

বাংলা: এত গভীর দর্শন কাকে ভেবে লিখেছেন?
- ‘মাহনূর মজুমদার অর্পিতাকে’ ভেবে লিখেছি। সে ‘হৃদকথন’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। তবে আমার কি মনে হয় জানেন? পাঠক যখন হৃদকথন বইটি পড়বে তখন তারা এই অর্পিতা চরিত্রের প্রেমে পড়ে যাবে।

বাংলা: আপনি জীবনকে কিভাবে দেখেন?
- দেখুন, জীবন সহজও নয় আবার কঠিনও নয়। জীবন জীবনের মত। আর জীবনকে জীবনের মত করেই দেখতে হয়। মজার ব্যাপার হল, একটা জীবন চলে গেলেও আমরা জীবনের অর্থটাই বুঝি না। জীবন ভীষণ রকমের সুন্দর এক জায়গা। আপনি জীবনকে জীবনের হিসেব বুঝিয়ে দেন। দেখবেন, জীবন আপনাকে আপনার হিসেব বুঝিয়ে দিয়েছে।

বাংলা: লেখালেখি আর ফিল্ম মেকিং নিয়ে অনেক তো কথা হল। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যাই। মাঝখানে সাড়ে তিন মাসের অধিক সময় জুড়ে আপনার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সে সময়টাতে কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন?
- আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটি করেছেন। আসলে জীবন অনেক কঠিন জায়গা। টিকে থাকতে হলে জীবনের প্রতিটি পদে পদে আপনাকে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হবে। যদি যুদ্ধে হেরে যান তাহলে এমনিতেই আপনার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে। আর যদি সেই যুদ্ধে অংশ না নেন, তাহলে দেখবেন অন্য কেউ আপনার সেই জাগা দখল করে নিয়েছে। জীবনের এই কঠিন খেলায় কোন কম্প্রোমাইজ খাটে না। সত্যি কথা বলতে কি, সেই সাড়ে তিন মাসের কথা ভাবলে এখনও আমার গা শিউরে ওঠে। 

কেন এত লম্বা সময়ের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম, সে কারণে এখনও অনেকেই আমার উপর অভিমান করে আছে। আসলে সে সময়টাতে আমি ভালো ছিলাম না। তো ভার্চুয়াল জগতে থেকে কি করবো? শুধু শুধু কিছু মানুষের কাছে বোঝা হয়ে থাকার কোন মানে হয় না। তবে, অনেকেই বিষয়টিকে প্রেমঘটিত বিষয় মনে করেছেন। কিন্তু প্রেমঘটিত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। আপনি নিজেও জানেন, আমি সিঙ্গেল। আসলে, দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ডিপ্রেশন আমার ভেতরটাকে রক্তাক্ত করে ফেলেছিল। আমি আর নিজের ভার নিতে পারছিলাম না। মনে হল কোথাও পালিয়ে যাই। কিন্তু পালিয়ে গিয়েও নিজেকে শান্ত করতে পারছিলাম না।

বাংলা: তাহলে কি সে সময়টাতে আপনি পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছেন?
- দেখুন, জীবন থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইলে সান্ত্বনা পাওয়া যায় কিন্তু শান্তি পাওয়া যায় না। শান্তি পেতে হলে আপনার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অনেকেই আপনাকে বাহবা দিবে। আপনাকে তোষামোদ করবে। সেসব কথা একবার গিলবেন তো সব শেষ। অত শত কথা না শুনে আপনার আপনার মনের কথা শুনুন। আপনাকে নিয়ে কে কি ভাবল না ভাবল তা দিয়ে আপনার কিছু যায় আসে না। বরং আপনি আপনার নিজেকে নিয়ে ভাবুন, তাতে নিজেরই লাভ হবে। জানেন তো, প্রকৃতি ব্যর্থ মানুষ পছন্দ করে না আর তাদের কথা কেউই শোনে না। আপনার লক্ষ যদি হয়ে থাকে বড় তাহলে আপনাকে কিছু করে দেখাতে হবে। বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

বাংলা: ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ‘ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ওয়েলস’ থেকে স্কলারশিপ পেয়েও সেখানে পড়তে যান নি কেন?
- শুরুতেই কিন্তু আমি বলেছিলাম সবকিছু বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। একটা সময় আমার বিশ্বাস ছিল দেশের বাহিরে ভালো ইউনিভার্সিটিতে পড়লেই কেবল ভালো ক্যারিয়ার হয়। এখন আমার সে বিশ্বাস পাল্টে গিয়েছে। এখন আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ‘এমবিএ’ করছি। এটাও তো কম কথা নয়। হ্যাঁ এটা ঠিক, দেশের বাহিরে চলে গেলে আমি হয়তো ব্যাটার সার্টিফিকেট পেতাম, ব্যাটার মানি পেতাম, ব্যাটার ফিউচার পেতাম। কিন্তু আমি কি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারতাম? বোধহয় পারতাম না। আমার কাছে আমার স্বপ্নটা অনেক বড় সত্তা। রক্তের দামে কেনা স্বপ্ন তো! 

তাই সবকিছু বাদ দিয়ে এর পেছনে ছুটছি। আর এখন দেশের বাহিরে যাই নি, তার মানে তো এই নয় যে আর কখনোই যেতে পারবো না। আল্লাহ চাইলে যেকোনো সময় চলে যেতেও তো পারি। বলা তো যায় না। আর আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পৃথিবীতে যা হয়েছে, যা হচ্ছে, যা হবে সবই স্রষ্টার ইশারায় হয়। সুতরাং তিনি আমার ভাগ্যে যা রেখেছেন তা নিশ্চয়ই আমার কল্যাণের জন্য রেখেছেন।

বাংলা: আজ থেকে দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
- ‘Future is always uncertain. Nobody knows about his future.’ তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে চাই। বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে পারলে সেটা হবে আমার জন্য বড়ই আনন্দের।

বাংলা: তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
- আমি নিজেও তো তরুণ ভাই। আমি আবার কি পরামর্শ দেবো? তবে আমি আমার জীবনে এপ্লাই করা কিছু কথা শেয়ার করতে পারি।

“Life is tremendous beautiful. You never know what comes next. You just believe in yourself. Listen to your heart. Do, what you believe. No matter, Who is your father? Where are you born? What you look like? What is your background? It doesn’t matter actually. But the matter is, Who actually you are! Focus on your dream. No compromise with your dream. Be decent, be polite. And obviously trust on Almighty. Surely He will help you to fulfill your dream.”

বাংলা: বইমেলায় প্রকাশিত আপনার বইগুলো কোথায় পাওয়া যাবে, তা যদি বলতেন।
- অমর একুশে বইমেলায় ‘নওরোজ কিতাবিস্তান’- এর ‘১১২-১১৩-১১৪’ নং স্টলে এবং অনলাইনে ‘Rokomari.com’ এ পাওয়া যাবে।

বাংলা: ব্যস্ততার মাঝে আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
- জীবনের এত স্বপ্ন ও বাস্তব জীবনের গল্প বাংলা রিপোর্টের সঙ্গে শেয়ার করতে পেরে নিজের কাছেও অনেক ভাল লাগছে। আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

বাংলা/আরএইচ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0182 seconds.