• ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ ১৯:০৭:০৮
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ২০:০৫:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘শিল্পকলা একাডেমি কালচারাল টেরোরিস্ট গ্রুপের আনঅফিসিয়াল হেডঅফিস’

বাংলা ডট রিপোর্টের সাথে আড্ডায় রিফাত চৌধুরী।

রিফাত চৌধুরী। ছাপার অক্ষরে তার নাম ছাপা হয় কবি হিসেবে। আর টেলিভিশন স্ক্রিনে তার নাম আসে অভিনেতা হিসেবে। তাই আমরা তাকে অনায়াসে কবি ও অভিনেতা বলে ডাকি। তরুণ নির্মাতা অভিনেতাদের কাছে তিনি রিফাত কাকা নামে পরিচিত। ভীষণ বিনয়ী ও বন্ধু ভাবাপন্ন এই মানুষটি কথা বলেন বেশ মজা করে। আড্ডাবাজীতেও বেশ জমিয়ে রাখেন। উত্তরার একটি শুটিং সেটে হঠাৎ দেখা তার সাথে। এই হাড়কাঁপানো শীতে চায়ের কাপে ধূয়া তুলে শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে বেশ আলাপ জমিয়ে দিলেন।

আলাপে আড্ডায় উঠে আসে রিফাত চৌধুরী কবি থেকে কিভাবে অভিনেতা হলেন, শিল্পকলা কিভাবে পণ্যের সাথে মিলিমিশে একাকার হয়ে গেছে...। এভাবেই আড্ডার বাঁক ঘুরে ঘুরে ব্যক্তি জীবন থেকে আলোচনা গিয়ে দাঁড়ায় মিডিয়া শিল্পের বর্তমান অবস্থা কিংবা চলমান রাজনীতিতে। কথার রেলগাড়ি এক স্টেশন থেকে ছুটে যাচ্ছিলো আরেক স্টেশনে। সেও যেনো এক কবি রিফাত চৌধুরীর মতো বহেমিয়ান কেউ। সেইসব আলাপের চম্বুক অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

‘আরে অনেক দিন পর দেখা...’ রিফাত চৌধুরী ওরফে আমাদের রিফাত কাকা প্রথম স্বাক্ষাতে এভাবেই সম্মোধন করে কুশল বিনিময়ের পর্ব সেড়ে নিলেন। আড্ডার এক পর্যায়ে এসে এই আলাপন বাংলা ডট রির্পোটের পাঠক ও দর্শকদের জন্য প্রকাশের অনুমতি চাইলে উত্তরে হেসে বললেন- ‘তাও করা যায়। লুকচুরিরতো কিছু নাই।’ ক্যামেরা হাতে এই আলাপচারিতার ভিডিও ধারন করেছেন- সোহান ফেরদৌস। স্বাক্ষাতকারের সাথে ভিডিও লিঙ্কও দেয়া আছে। পুরো স্বাক্ষাতকারটি দেখা যাবে এখানে (https://goo.gl/WRBepT)

বাংলা ডট রির্পোট: কেমন আছেন...?
রিফাত চৌধুরী: এইতো বেঁচে আছি আরকি...।

বাংলা ডট রির্পোট: আগে নাটকের বিষয়ে আসি। আপনার প্রথম নাটকে অভিনয় কবে?
রিফাত চৌধুরী: প্রথম কাজ নাটক বলবো না। ওটা ছিলো একটা ডকুমেন্টারি। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি একটি ডকুমেন্টারির চরিত্র হয়ে। কাজটি করেছিলো নুরুল আলম আতিক। ডকুমেন্টারির নাম ছিলো ‘বিজন মানুষ’। সেটা আশির দশকের শেষের দিকে বা ৯০ এর শুরুর দিকে হবে হয়তো।

বাংলা ডট রির্পোট: ওই কাজটা সম্পর্কে বলুন।
রিফাত চৌধুরী: ওটা ছিলো একজন কবির একদিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে করা। সে সারাদিন কি করে এইসব আরকি...। মূলত কাজটা করা হয়েছে কবি বিনয় মজুমদারের উপর একটা কাজ করতে গিয়ে। ওরা ছিলো বিনয় মজুমদারের দারুন ভক্ত। বিনয় মজুমদারের উপর একটা ডকুমেন্টরি করতে গিয়ে একটা ক্যান (ভিডিও রিল) বেঁচে গেলো। ওই বেঁচে যাওয়া ক্যান দিয়েই আমার উপর শুটিং করলো। আমরা দুই দিন এটার শুটিং করেছিলাম।
অনেক বছর পর আমার এটা ভেবে আশ্চর্যই লাগে যে আমার বন্ধু ভাগ্য এতো ভালো...। যদিও ওরা আমার অনুজ বন্ধু, কবি।
আর নুরুল আলম আতিকতো লিটারেচারের ছেলে। গল্প লেখে প্রবন্ধ লেখে কবিতা লেখে ওখান থেকেইতো সিনেমার জগতে এসেছে। আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যে একজন মহান কবির ডকুমেন্টারি করতে গিয়ে বাকি যে ফিল্মের অংশগুলো থেকে গিয়েছিলো সেটা দিয়ে আবার আমার মতো একজন অখ্যাৎ কবির ডকুমেন্টরি করা... এটা ভেবে বেশ ভালো লাগে।

বাংলা ডট রির্পোট: নাটকে কিভাবে আসা?
রিফাত চৌধুরী: আকরাম খানের একটা প্রোডাকশন আমরা করেছিলাম ‘ছিপ’ নামে। আমরা ঢাকা থেকে ফরিদপুর গিয়ে শুটিং করেছিলাম। তখনতো এমন এতো চ্যানেল আসেনি। কোথাও দেয়ারও সুযোগ হয়নি। তখন ওই প্রথম প্রদর্শনী দেখিয়ে তারপর টিকিট সিস্টেম করে বিভিন্ন জায়গায় দেখা হয়েছিলো।

বাংলা ডট রির্পোট: মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী, নুরুল আলম আতিক এদের সাথে আপনার যুক্ত হওয়া এবং তাদের শুরুটা কাছ থেকে দেখেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলুন।
রিফাত চৌধুরী: আসলে কি ওরা একটা দল ছিলো বিশাল। যেমন মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী, নুরুল আলম আতিক, আকরাম খান, তারপরে জয়ন্তদার ছেলে নীল চট্টপাধ্যায়, গিয়াস উদ্দিন সেলিম...। মানে এখন যারা ভালো কাজ করছে এই পুরো দলটাই ছিলো এরা।
এদের লিডিং পয়েন্টে ছিলো নুরুল আলম আতিক। মানে আতিকই এদের জড়ো করেছে। আমার চোখে দেখা অবস্থায়...। আতিকের একটা প্রোডাকশন করতে গিয়েছিলাম আমি কুষ্টিয়ায়। প্রোডাকশনটার নাম ছিলো ‘সাইকেলের ডানা’। সেখানে আমি রেজাকে আবিষ্কার করি। অমিতাভ রেজা। উনি ছিলেন আতিকের প্রধান সহকারী পরিচালক।

যাই হোক যে কোন কারণে পড়ে এই গ্রুপটা ভেঙ্গে যায়। ওদের গ্রুপের নাম ছিলো ‘জলছবি’। এলিফ্যান্ট রোডে ওদের একটা আড্ডা ছিলো। ওদের একটা প্রোডাকশন হাউজ ছিলো। ওখানে সবাই দল বেধে আড্ডা দিতাম। গল্প করতাম। ছবি দেখতাম। ওরা খুব ভক্ত ছিলো ইরানী ছবির। ওদের পাল্লায় পড়ে আমিও ইরানী ছবি দেখেছি প্রচুর।

বাংলা ডট রির্পোট: মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর সাথে আপনি অনেক কাজ করেছেন। তার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা বলেন।
রিফাত চৌধুরী: ধরুন উনি যদি ৩০ টা নাটক বানিয়ে থাকে তার ভেতর ২৫টা নাটকে আমাকে কাস্ট করেছে। আমাকে বেশ ভালোবাসতো। অনেক ‌‌‘লাইও’ দিতো। আমিতো শুটিং করার ওতো কলা-কৌশল জানতাম না...। একদিন আমাকে হঠাৎ করে এসে বলেন, আসেন একটা কাজ হবে। আমি বললাম পারবো? উনি বলে হ্যা পারবেন না কেনো। তারপর বললাম আপনিতো বয়সে ছোট পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে পারবো না। তারপর ক্যামেরা সালাম করে নিলাম। শট দিলাম। ওতো শটের পর সে কি খুশি। বলে দারুন হয়েছে। আমি বললাম হয়েছেতো। ও বললো হ্যা হ্যা...। সেই যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। এখনো দাঁড়িয়েই আছি...।

বাংলা ডট রির্পোট: আপনার নাটকের জার্নিটা বলুন...
রিফাত চৌধুরী : নাটকের জার্নিটা একটু লং বলা যায়। প্রায় ১৫ বছরের মতো কাজ করেছি। প্রায় শ’পাঁচেক কাজ করে ফেলেছি। এখন যেটা বলতে চাচ্ছি প্রথম দিকে একটা কাজ করে যে আনন্দ পেতাম টেস্ট পেতাম এখন সেটা পাচ্ছি না। প্রথম দিকের কাজ বলে যে টেস্ট পেতাম বিষয়টা তা না। কোথায় জেনো একটা জাম্পিং হয়ে গেছে। বড় ধরনের একটা... যারা আগে ডিরেকশন দিতেন এবং এখন যারা নতুন ডিরেকশন দেয় তাদের মধ্যে একটা গ্যাপ হয়ে গেছে। এই গ্যাপগুলো হয়েছে কি... আমি একটু আগে জলছবির যে দলটার কথা বললাম এরা প্রত্যেকেই কিন্তু লেখক। মনে রাখতে হবে লিটারেচারের ভক্ত। যার ফলে ওদের কাজগুলো লিটারেচারের একটা গল্প একটা গন্ধ পাওয়া যেতো। ডায়লগগুলো ভালো ছিলো, এক্টিং পাট ভালো ছিলো লোকেশনগুলো ভালো ছিলো। আমি সারওয়ারের একটা কাজ করতে গিয়ে সেই সুন্দরবন চলে গিয়েছিলাম। ‘কানামাছি’ তার নাম ছিলো। সেই সব কাজতো এখন চিন্তা করা যায় না। ওটা মিলান কুন্ডের একটা গল্প ছিলো। যার নাট্যরুপ দিয়েছিলেন সারওয়ার।

বাংলা ডট রির্পোট: আপনিতো কবিতা লেখেন। কবিতার সাথে আপনার বসবাস শুরু কবে থেকে এবং সেই জার্নিটা সম্পর্কে জানতে চাই।
রিফাত চৌধুরী: কবিতার পাল্লায় পরেছিতো সেই ছেলেবেলা থেকেই... কৈশর থেকেই। কবিতাতো গোয়েন্দার মতো পেছনে এখনো লেগে আছে। এই মাঝে মাঝে ধরি-ছাড়ি। কখনো দেখা গেলো অভিনয়ও করছি। দুটা এক সাথে আমার পক্ষে চালিয়ে যেতে হলে হিমশিম খেতে হয়। যার ফলে মাঝখানে আমি লেখা থেকে অনেক বছরই বিরত ছিলাম বলা যায়। আসলে আমাদের দেশে যারা লেখা লিখি করে তারা আসলে হয়কি কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক থাকে, কিছুটা সৎ থাকে। কিছুটা ভদ্র ব্যবহার করে মানুষের সাথে। মানে এদের এই দেশে কোন মূল্য নাই। বিশেষ করে আমি মনে করি লিটারেচারের মূল্য উঠে গেছে এই দেশ থেকে। লিটারেচার করেতো বাঁচা যাবে না। আমাকেতো বাঁচতে হবে। কে কাকে বাঁচায়। যার ফলে আমি বাধ্য হয়ে বাঁচার তাগিদে শুধু হয়তো অভিনয় করতে আসছি।

বাংলা ডট রির্পোট: একজন শিল্পী মানে নামধারী শিল্পী এবং সত্যিকার শিল্পীর ভেতর ফারাকটা কেমন চোখে পরছে...
রিফাত চৌধুরী: আমি মনে করি সত্যিকার যে শিল্পী তা আমাদের এখানে আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। কমে যাওয়ার একটা কারণও আছে। এর একটা কারণ হচ্ছে এই সত্তাটাকে জীবিত রাখতে গেলে তাকে প্রচণ্ডভাবে সৎ থাকতে হয়। মানবিক গুণাবলী থাকতে হয়। এগুলা যদি সে হারিয়ে ফেলে তাহলে স্বাভাবিক, তার ভেতর শিল্পের গুলাবলী থাকবে না। যার ফলে এটাই হয়েছে। আরেকটা বড় ধরনের কারণ হচ্ছে আমি বলতে চাই- শিল্পকলা একাডেমি। তার মানে এটা শিল্পীদের আড়ত বলবো পাটের আড়তের মতো। কিন্তু শিল্পকলা একাডেমি আর তেজগাঁও শিল্প এলাকা নিশ্চই দুটা জিনিস এক নয়। কিন্তু এখন শিল্পকলা একাডেমি আর তেজগাঁও শিল্প এলাকা এক হয়ে গেছে। এ জন্যই শিল্পীদের এই দূরাবস্থা।

বাংলা ডট রির্পোট: তাহলে শিল্প এবং শিল্পীর ভেতর এই যে একটা বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে...। সমাজের প্রয়োজনে কথা না বলার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে এটা কেন?
রিফাত চৌধুরী : আশির দশকে আমরা একটা নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হলাম। এটা হলো এন্টি টেরোরিজম। যে টেরোরিস্টের বিপক্ষে যাওয়া। শান্তিকামী মানুষেরা সেটাই চাইবে। আমি দীর্ঘদিন পরে আবিষ্কার করলাম যে এই শব্দটি আমদানী করেছে আমেরিকা। সে তার নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এসব আবিষ্কার করেছে।
তারপর দেখতে দেখতে ৯০ দশক চলে আসলো। ৯০ দশকে এসে আমার কাছে ধরা পরলো বাংলাদেশে কতগুলো কালচারাল টেরোরিস্ট গ্রুপ হয়েছে। এই গ্রুপগুলো প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয়পৃষ্ঠ পোষকতায পেয়ে বছরের পর বছর জেনারেশন বাই জেনারেশন আমাদের যে যুব সমাজ আছে তা একেবারে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমি বলবো এটা যদি খুব শিগগিরই বন্ধ করা না যায় তাহলে বোধহয় স্বাধীনতার মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি তা নষ্ট হয়ে যাবে।

বাংলা ডট রির্পোট: এই টেরোরিস্ট বলতে আপনি কাদেরকে বোঝাতে চাইছেন? মানে কিভাবে ঘটছে?
রিফাত চৌধুরী: এখানে যারা পলিটিক্যালভাবে কাজ করছে তারাই এই টেরোরিস্ট তৈরি করেছে।
যারা এই কালচারাল টেরোরিজম ঘটাচ্ছে তারা চায় না এদেশের মানুষের সুকুমারভিত্তি ঘটুক। যদি বাংলাদেশের মানুষের ভেতরে সুকুমার ভিত্তি ঘটে তাহলে ওরা টিকতে পারবে না। বছরের পর বছর থাকতে পারবে না। আরেকটা জিনিস রাষ্ট্র যতো ফ্যাসিস্ট হবে সেই দেশের শিল্প ততো বিমূর্ত হবে।

আমি যদি সরাসরি বলতে চাই তাহলে বলবো শিল্পকলা একাডেমি হচ্ছে বাংলাদেশের কালচারাল টেরোরিস্ট গ্রুপের ‘আনঅফিসিয়াল’ হেডঅফিস, বাংলাদেশ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি... মানে রাষ্ট্রীয় বড় বড় যে প্রতিষ্ঠানগুলো কালচারের সাথে যুক্ত এগুলো সবগুলোই আসলে কালচারাল টেরোরিস্ট।

বাংলা ডট রির্পোট: আমাদের টিভি নাটকে আমরা ওই ভাবে রাজনীতির উপস্থিতি দেখি না। এর কারণ কি মনে হয় ?
রিফাত চৌধুরী: আমরা কি রাজনীতি করছি? রাজনীতিতো হচ্ছে না এখানে। হলে তো দেখা যেতো। যেমন আমি একটা ছড়া লিখেছিলাম, দলের জন্য দল/ দলের জন্য বল / কে যে কোন দল/ এই নিয়ে কোন্দল। পলিটিক্যাল পার্টিগুলোই চায় না তাদের এই জিনিসপত্র গুলো আমি দেখাই। যেমন আপনি হয়তো দেখে থাকবেন আমার গুরু মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী একটা নাটক করেছিলেন ‘ফোর টুয়েন্টি’। নাটকটি টোটালটাই কিন্তু পলিটিক্যাল। নাটকটা কিন্তু আমরা শেষ করতে পারিনি। নাটকটি এক পর্যায়ে ব্যান করে দেয়া হয়েছে। কারণ এখানে এতো সত্য কথা বলা হয়েছিলো তখন আর তারা নিতে পারেনি। আমাকে এখনো অনেকেই বলে পলিটিক্যাল যতো নাটক হয়েছে তার ভেতর এটা মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। ...আমি এই ৫৪ বছর বয়সেই দেখেছি যার কোন যোগ্যতাই সে এখানে নেতা হয়!

বাংলা ডট রির্পোট: আপনার শৈশব কৈশর কোথায় কেটেছে?
রিফাত চৌধুরী: আমার শৈশব কেটেছে পুরান ঢাকার চকবাজারে। আর কৈশর কাটিয়েছি কিশোরগঞ্জে।

বাংলা ডট রির্পোট : আবারো একটু কবিতার কাছে ফিরে আসি...। আপনার প্রথম কবিতার বই বের হয়েছে কবে?
রিফাত চৌধুরী: এখন পর্যন্ত আমার ১৩টি কবিতার বই বের হয়েছে। প্রথম বই ১৯৮৪ সালে বের হয়েছে। সর্বশেষ বই বের হয় ২০১৪ সালে। নাম ছিলো ‘আমি একজন ভৌগলিক’। এবার বই মেলায় আসছে আরেকটি বই। নাম ‘বাঁচার রাস্তা’।

আলোচনা তখনো চলছে...। বিভিন্ন পথে ছুটছে আলোচনা। কোন ধরনের শিল্পীরা কারী কারী টাকা নিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে, কাদের জমিনে দাঁড়িয়ে কারা শিল্প চর্চা করছে কিংবা নিছক একজন কবি কোনঠাসা হয়ে যাচ্ছে বেঁচে থাকতে গিয়ে এসবই উঠে আসছে গল্প কথায় আড্ডায়। চায়ের কাপে গলা ভিজিয়ে নিতে নিতে আড্ডায় আড্ডায় সময় বয়ে যাচ্ছিলো তার মতো। কিন্তু বাধ সাধলো ডিরেক্টরের ডাক...। সহকারী পরিচালক এসে জানালো শট রেডি...। রিফাত চৌধুরীকে জীবনের গল্প ছেড়ে ঢুকতে হলো নাটকের গল্পে। সেখানেও জীবন তাকে ছাড়েনি। বখাটেদের উচ্ছৃঙ্খলায় তার সাজানো পরিবার তছনছ করে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রিফাত চৌধুরী একা একাই একটা লড়াই শুরু করে গোপনে। এমনই একটি চরিত্রের ভেতর ঢুকে গেলেন রিফাত চৌধরী। ডিরেক্টর এ্যাকশন বলতেই তার জানালায় ঢিল পরতে শুরু করে। এলাকার বখাটেরা তাকে উত্যক্ত করছে। জানালার কাছে গিয়ে রিফাত চৌধুরী বলতে শুরু করলেন স্ক্রিপ্ট রাইটারের লিখে দেয়া ডায়লগ গুলো...। আমরা ওই অবস্থায় তাকে রেখে বের হয়ে আসি শুটিং হাউজ থেকে। বাইরে তখন প্রচণ্ড শীত নেমেছে...।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0230 seconds.