• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ২১:৩৮:৫১
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১৫:৫৫:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কর্পোরেট হিরো- পর্ব ১

‘সাহসী মায়ের জন্যই আজ আমি সফল’

ছবি: বাংলা ডেস্ক

সফলতা শব্দটি আমাদের সবার জীবন যাপনের ক্ষেত্রেই একটি কাঙ্খিত শব্দ। আমরা সবাই এর পেছনে ছুটি। তবে সফলতা জীবনের অরণ্যে এক সোনার হরিণের নাম। সহজেই কি তার দেখা পাওয়া যায়? সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠির কাছে তাদের পেশার বিচিত্রতার ধরণ অনুযায়ী সফলতা একেক রকম। তবে ধরণ যাই হোক না কেন সফলতার শীর্ষে যারা পৌঁছে যেতে পারেন তারা হয়ে ওঠেন আমাদের হিরো। কর্পোরেট জগতে প্রতিদিনের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবেলা করে নিজেকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাওয়া সহজ কথা নয়। শুধু তাই নয় অবস্থান ধরে রেখে থাকাটাও প্রতিদিন প্রতিমূহুর্তের চ্যালেঞ্জ। এই সব চ্যালেঞ্জ নিয়েই টিকে থাকতে হয়।

কর্পোরেট জগতের প্রতিদিনকার চ্যালেঞ্জ সামাল দিয়ে টিকে থাকা এই নায়কদের নিয়েই আমাদের আয়োজন ‘কর্পোরেট হিরো’। কর্পোরেট জগতের এই হিরোদের নিয়ে বাংলা ডট রিপোর্ট আয়োজন করেছে ধারবাহিক সাক্ষাৎকার। প্রতিটি সাক্ষাৎকারে থাকবে কর্পোরেট  দুনিয়ার একজন সফল ব্যক্তির জীবনে ঘটে যাওয়া স্মরণীয় ঘটনা, সফলতার কাহিনী, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তরুণদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ।

আমাদের ‘কর্পোরেট হিরো’ ধারাবাহিক স্বাক্ষাতকার আয়োজনে এ পর্বে থাকছেন নেসলে বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন লিটন। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন–নাহিদ ন্যাস

পরিচিতি:

নেসলে বাংলাদেশ জোনের সিনিয়র ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে শাহাদাত হোসেন লিটন। মাল্টিন্যাশনাল এই প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটির ব্যস্ততাও কম না। পরিবার থেকে প্রতিষ্ঠান সব কিছু সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে গেলে ঘড়ির কাটার হিসেবে ২৪ ঘণ্টায় দিনটি আরো দীর্ঘ হলে ভালো হতো। কিন্তু সময়ের চ্যালেঞ্জ তো এটাই। যিনি এই চ্যালেঞ্জে জয়ী তিনিই নায়ক। আর তাইতো আমাদের চোখে কর্পোরেট হিরো হিসেবেই নাম উঠে এসেছে শাহাদাত হোসেন লিটনের।

রাজধানীর ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডস্থ তার বাসায় এক সন্ধ্যায় হাজির হতেই মূহুর্তেই শুরু হয়ে গেলো খোশ গল্প আড্ডা। কথায় আর আড্ডায় উঠে আসে তার শৈশব থেকে শুরু করে বর্তমান সময়। অবলীলায় বলে চলছিলেন পরিবার নিজের গল্প কথা।

তৎকালীন বৃহত্তর মাদারীপুর বর্তমান শরীয়তপুর জেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৩ সালের ২৪ জানুয়ারি। তার বাবা এম. এ. কাশেম পেশায় চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। চিকিৎসাসেবায় যেমন তার নাম ডাক ছিলো, আবার সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবেও তার সুনাম ছিলো এলাকায়। সংসদ সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন পিতা। মা গৃহিনী। বাবা সমাজ সেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মায়ের শাসনেই তাদের বেড়ে ওঠা। বাবার আদর্শ আর মায়ের শাসন তাদের প্রত্যেক ভাইবোনকেই স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে।

বাবা পেশায় একজন নামকরা চিকিৎসক ছিলেন। তাই গ্রামে তাদের বাড়িকে সবাই ডাক্তার বাড়ি নামেই চেনেন।

ধানমন্ডির বাসভবনের ড্রয়িং রুমটি যেন হয়ে উঠেছিলো তার শৈশবের আঙ্গিনা। স্মৃতির ঝাপি খুলে বলে চলছিলেন সেই গল্প। কথার ফাঁকে শাহাদৎ হোসেন লিটন বলেন, ‘আমি পড়াশুনা করেছি মাদারীপুরে। এস এস সি পর্যন্ত ছিলাম মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এইচ এইচ সি শেষ করি নাজিমুদ্দিন সরকারি কলেজ থেকে। তারপর ঢাকা ভার্সিটি থেকে জিওগ্রাফিতে মার্স্টাস করি। আমার জন্মস্থান বৃহত্তর মাদারীপুর জেলার বর্তমান শরিয়তপুরে। আমি ছোটবেলা থেকে কলেজ জীবন পর্যন্ত ছিলাম মাদারীপুরে। মাদারীপুর সদরেই আমাদের বাড়ি। ডাক্তার বাড়ি নামেই সবাই চিনে।

আমাদের ৭ ভাই বোনের মধ্যে চার ভাইবোনই ডাক্তার। আমাদের একটা বোন সে বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে। সে এবং তার স্বামী দুজনই ডাক্তার। আমার বড়ভাই একজন আই স্পেশালিস্ট, থাকে সৌদি আরবে। মেজ ভাই সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩য় ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের প্রধান। আমি ভাইদের মধ্যে ৪র্থ এবং ভাই বোনের মধ্যে ৫ম। আমার ৫ম ভাই ব্যবসায়ী এবং ছোট ভাই একজন সাংবাদিক। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় আছে।

আমি যেহেতু ডাক্তার পরিবারে জন্মগ্রহণ করি তাই পরিবারের ইচ্ছে ছিলো ডাক্তার হব। কিন্তু ছোটবেলা থেকে আমার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে ছিলোনা।

পরিবারের সবাই ডাক্তার, তবুও এই পেশার মতো সম্মানজনক পেশায় কেন যেতে আগ্রহী না? তাছাড়া আমাদের সমাজে সবাই ছোট বেলা থেকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। তাহলে আপনার ইচ্ছা ছিলো না কেন?

‘পেশাটা অনেক ভালো। মানুষকে হেল্প করে। কিন্তু এ পেশার লোকজন সামাজিকভাবে ওনারা এতো বেশি ব্যাস্ত থাকে...সৌস্যাল লাইফটা লিড করতে পারেনা। এই ধরণের অনেক কারণেই আসলে আমি এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছি। অবশ্য আমার মায়ের ইচ্ছে ছিলো আমি আর্মিতে যোগ দিবো। কিন্তু সেটাও আমার পছন্দ ছিলোনা। কারণ এই জায়গাটায়ও খুব বেশি সিস্টেম্যাটিক লাইফ লিড করতে হয়। মূলত আমার ইচ্ছে ছিলো আমি দেশের বাহিরে পড়াশুনা করবো। কিন্তু সেটা বিভিন্ন কারণে হয়ে উঠেনি। আমার একটা স্কলারশিপ হয় রাশিয়াতে। কিন্তু কিছু কারণে শেষ মুহুর্তে আমি আর যেতে পারিনি। যে কারণে আমি একটু চিন্তিত হয়ে পড়ি।

আমি খেলাধুলা প্রিয় ছিলাম। প্রচুর খেলতাম। ফুটবল এবং ক্রিকেট দুইটাই পছন্দ করলেও ঝোকটা ছিল ক্রিকেটের দিকে। মাদারীপুর জেলা পর্যায় অনেকবার খেলছি। ঢাকা এসে বিভিন্ন ক্লাবেও অনুশীলন করেছি। পরে পড়াশুনার চাপে ওইভাবে আর খেলতে পারিনি। কিন্তু আমি এখনো ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট। মাদারীপুর ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদে আছি। আমাদের ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে মাদারীপুর থেকে যাতে প্লেয়ার উঠে আসে জাতীয় দলে খেলতে পারে সে ব্যবস্থা করা।

নিজের প্রথম চাকুরির কথা উঠতেই জানা গেলো এই কর্পোরেট হিরোর এই অবস্থানে আসতে গিয়ে প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার গল্প।

তিনি বলেন, ‘আমি অনেক ভাগ্যবান বলবো নিজেকে। কারণ আমি অনার্স শেষ করার সাথে সাথেই চাকরি পেয়ে যাই। আমি প্রথম ‘জব’ শুরু করি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম লিমিটেডে। সেখানে প্রায় পাঁচ বছর চাকরি করি।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের দিকে নেসলে গ্রুপে কাজে যোগদান করি। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। আমি তখন মেডিক্যাল ডেলিগেট হিসেবে জয়েন করি। পরে আমি ১৯৯৮ সালে সেলসের জায়গাটা বেছে নেই। কারণ আমার একটা ইচ্ছে ও চ্যালেঞ্জ ছিলো মার্কেটিং এর জায়গায় কাজ করা। যেহেতু সেলসটা এটারই একটা অংশ তাই বেছে নেওয়া। আমার প্রথম পোস্টিং হয় বগুড়া। এভাবেই এই পর্যন্ত পৌঁছেছি।

এবার কয়েকটি সরাসরি প্রশ্ন উত্তর পর্বে যেতে চাই জানালে তিনি সম্মতি দিলেন। শুরু হলো আমাদের প্রশ্ন উত্তর পর্ব-

বাংলা: বাইরে থেকে আমরা দেখি কর্পোরেট জগতে একটা প্রতিযোগিতা সব সময় লেগেই থাকে। কিন্তু আমরা জানি নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানের মানুষও আপনাকে সবাই বেশ পছন্দ করে। এর কারণ কি?

শাহাদাত হোসেন লিটন: একটা ব্যাপার নেসলে যেহেতু বিশ্বের নাম্বার ওয়ান ফুড কোম্পানি এই জায়গায় কোম্পানিটির ১৫১ বছর চলছে তার বেসিক একটা বিষয় থাকে তারা তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগতভাবে উন্নতি করার জন্য যা যা করণীয় সবই করি। আমি তা পেয়েছি। পাশাপাশি আমি নিজেও চেষ্টা করেছি যারা নতুন তাদের গাইড দিতে। আবার সম্পর্কের কারণেও, কারণ কর্পোরেট জায়গাটা ছোট তাই নিয়মিত যোগাযোগ হয় অনেকের সাথে তাই এটাকে ভালোবাসাও বলতে পারেন। ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা নেসলেতে, এটা ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রায় সবার সাথেই কম বেশি ভালো সম্পর্ক আছে।

বাংলা: নতুনদের টিকে থাকতে হলে কী করা উচিত?
শাহাদাত হোসেন লিটন: একটা বিষয় সবার মনে রাখা উচিত বাংলাদেশের কর্পোরেট জায়গাটা অনেক ছোট। এইখানে খুব লিমিটেড লোক। এই জায়গাটায় টিকে থাকা কঠিন। যদি কারো সঠিক লক্ষ্য না থাকে, এই জায়গায় সে তার ক্যারিয়ার গড়বে কারো যদি এমন ভাবনা না থাকে তাহলে সে একটা সময় গিয়ে আর এগিয়ে যেতে পারেনা।

বাংলা: আপনার সফলতার পেছনের শক্তি বা কৌশল কী ছিলো?
শাহাদাত হোসেন লিটন: আমি জানিনা আমি সফল কিনা কিন্তু আজ আমি যা তার জন্য আমি প্রথম আমার মায়ের কথা বলবো, তিনি অনেক সাহসী মহিলা। বাবার মৃত্যুর পর মা’ই আমাদের মানুষ করেছেন। তার সঠিক শাসন ভালোবাসা ছিলো। পাশাপাশি আমার ভাইবোনদেরও সাপোর্ট ছিলো। এক কথায় আমি আমার পরিবারের যথেষ্ট সাপোর্ট এবং সে সাথে নিজের মনোবল, ধৈর্য থাকায় আজ নিজেকে কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।

বাংলা: এই যে এতো ব্যস্ততা নিজেকে পরিবারকে সময় দিতে পারেন?
শাহাদাত হোসেন লিটন: আসলে এটা জীবনের একটা অংশ। আমাদের নেসলেতে একটা কথা আছে ‘ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স’। আর আমি খুব ভাগ্যবান আমার ওয়াইফ আমার ক্লাসমেট ছিলো। আমরা প্রেম করে বিয়ে করি যার জন্য একে অপরকে খুব বুঝতে পারি। স্বাভাবিক ভাবেই পরিবারের কাছ থেকে সব সময় সেই সাপোর্টটা পেয়েছি যা এখনো পাই। আমি এমন একটা জব করি যার সূত্রে আমাকে সারা বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে হয়। বাংলাদেশে এমন কোন জায়গা নেই এমন কোন থানা নেই যে জায়গায় আমি যাইনি। সব জায়গায় মানুষদের সাথে মিশেছি। কোম্পানির যারা ডিলার তাদের সাথেও আমার সম্পর্কটা বসের সম্পর্ক না। বন্ধুর মত। কারণ আমার কাজের জন্য এটা সেলস জব তাই টার্গেটের জন্য তাদের সাথে সম্পর্কটা ভালো থাকলে কাজেও সফলতা পায়।

বাংলা: আপনাকে জীবন সংগ্রামের গল্পটি জানতে চাই-
শাহাদাত হোসেন লিটন: ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাবা ডাক্তারি ছেড়ে যখন পুরোপুরিভাবে রাজনীতি শুরু করেন তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের পরিবারকে বেশ কিছু সমস্যা পোহাতে হয়। সে সমস্যার মধ্য দিয়েই মা আমাদের পরিবারটি পরিচালনা করেন। কখনো আমাদের পড়াশুনার ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করেননি। যে ভাবেই হোক চালিয়ে গেছেন। রাজনীতির প্রতিহিংসার কারনে ৭৫ থেকে ৯৬ পর্যন্ত অনেক কষ্ট করতে হয়। আমার ভাইয়েরা যখন সরকারি চাকরি পায় তাদের পোস্টিংগুলো এমন জায়গায় দেয়া হত যে তাদের পক্ষে পরিবারকে সহযোগিতা করাটা অনেক কষ্টসাধ্য হতো। কিন্তু সব কিছুর পর একটা জিনিস আমাদের সবার মাঝে ছিলো সেটা হচ্ছে সততা। এটা মায়ের নির্দেশ ছিল যাতে কোথাও কোন বদনাম না হয়।’

বাংলা: পড়াশুনার জন্য মার খেয়েছেন?
শাহাদাত হোসেন লিটন: আমি ছোট বেলা থেকে কখনোই খুব একটা ভালো ছাত্র ছিলামনা। আমি ক্লাস ওয়ান থেকে ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করিনি।আমার মধ্যে একটা স্কুল ভীতি ছিলো। স্কুলে যেতে চাইতাম না। এর জন্য আমাকে অনেক মার খেতে হয়েছে মা এবং ভাইদের কাছ থেকে। আমি সরাসরি ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হই। এরপর থেকে আসলে আমার সে ভীতিটা কমে যায়। তারপর আর কখনোই মার খেতে হয়নি।

বাংলা: যতদুর জানি আপনি দেশ-বিদেশে অনেক ভ্রমণ করেছেন সে বিষয়ে জানতে চাই...
শাহাদাত হোসেন লিটন: আমি চাকুরীর সূত্রে বাংলাদেশের প্রায় ৬৪টি জেলায় ভ্রমণ করেছি।পাশাপাশি দেশের বাহিরে প্রায় ১৫-২০টির মত দেশে যাওয়া হয়েছে।

বাংলা: আচ্ছা আমাদের দেশে কর্পোরেট জায়গা আর দেশের বাহিরে কর্পোরেট জায়গার মধ্যে কেমন পার্থক্য? 
শাহাদাত হোসেন লিটন: আসলে দেশের বাহিরে না থাকলে বুঝা যায়না দেশ কি...বাহিরে এতো সিস্টেম্যটিক। সময় ধরে কাজ করতে হয়। যেমন আমি কাজের মধ্যে একটা বন্ধুর সাথে কথা বলা যায় কিন্তু বাহিরে তা সম্ভব হয়না। আমার অনেক সুযোগ ছিলো বাহিরে কাজ করার কিন্তু আমি তা করেনি। আমার ইচ্ছে আমি দেশেই কিছু করবো।

বাংলা: তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু…
শাহাদাত হোসেন লিটন: বিশেষ করে ৮০ দশকের পর যাদের জন্ম এদের মধ্যে অনেেই একটু অস্থির ধরনের হয়। এরা কোন যায়গায় বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনা। এরা একসাথে অনেক কিছু চিন্তা করে। তারা ভালো কাজ করে কিন্তু কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে এদের কন্টিনেসনটা খুব বেশি ভালো হয়না। আমি বলবো নতুনদের ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য প্রচুর পরিমাণে থাকতে হবে। কর্পোরেট জীবনে এটা অনেক বেশি প্রয়োজন।কারণ এতো বেশি আপডাউন থাকে প্রতিনিয়ত একেকটা বসের পরিবর্তন হয় ফলে আগের বস যা ভালো মনে করেছে তা পরের বসের কাছে ভালো না লাগতেই পারে। এতে ধৈর্য হারানো যাবেনা। চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হবে।

আরেকটা কথা বলবো যদিও আমি চাকুরীজীবী কিন্তু আমি মনে করি চাকুরীর থেকে নিজে কিছু করা সেটা হতে পারে ব্যবসা। একজন ভালো উদ্যোক্তা হতে পারে। কারণ বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি ট্যালেন্ট। এদের চিন্তা শক্তি অনেক ভালো।

বাংলা: আপনার অর্জন...
শাহাদাত হোসেন লিটন: প্রতি বছরেই বেশীরভাগ বেষ্ট অ্যাচিভমেন্টই আমার মাধ্যমে আমার টিম পায়। শুধু এটাই না কাজ করতে গেলে একটা যায়গায় এটা শুধু আমার এচিভমেন্টই না এটা আমার টিমেরও পাওয়া।আমার টিমের সদস্যরাও যার যার যায়গায় খুব ভালো কাজ করে বিধায় এই অ্যাচিভমেন্টগুলো পাওয়া সম্ভব।

কথায় কথায় সময় গড়িয়ে চলে। আলোচনা তখনো অনেক বাকি। কত কথা জানার থাকে। তবে আপাতত আমরা এখানেই স্বাক্ষাতকারটি শেষ করছি। অর্থনীতি উত্থান পতন কলা কৌশল সামলে এগিয়ে যাওয়া এইসব হিরোদের জীবন তরুণদের প্রেরণা জোগাবে স্ব স্ব লক্ষ্যে পৌছাতে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0226 seconds.